পার্কি ভাড়ার চুক্তিপত্র : সম্পূর্ণ গাইড, নিয়ম, নমুনা ও আইনি বিশ্লেষণ
📘 বাংলাদেশের শহর ও গ্রামাঞ্চলে অনেক সময় এমন পরিস্থিতি আসে, যেখানে কেউ স্থায়ীভাবে বাড়ি বা জমি ভাড়া না দিয়ে সাময়িকভাবে “পার্কি” বা “অস্থায়ী” ভিত্তিতে ব্যবহার করতে দেন। এই ধরণের ভাড়াকেই সাধারণভাবে বলা হয় “পার্কি ভাড়ার চুক্তি” বা “অস্থায়ী ভাড়ার চুক্তিপত্র”।
অনেকে মৌখিকভাবে পার্কি দেন—“এই মাসটা থাকেন, পরে দেখা যাবে”—এই সহজ কথাটাই পরবর্তীতে হয়ে যায় ঝামেলার কারণ। বাসা ছাড়তে গেলে ভাড়াটিয়া সময় চান, আবার বাড়িওয়ালা চান সঙ্গে সঙ্গে বাসা খালি করতে। এই অবস্থায় সঠিকভাবে লিখিত পার্কি ভাড়ার চুক্তিপত্র তৈরি করলে উভয় পক্ষই নিরাপদ থাকেন।
⚡ পার্কি ভাড়ার চুক্তিপত্র তৈরি এখন আপনার মনের ইচ্ছে
অনলাইনে সহজেই showkatbd.com থেকে ক্লিক সমাধানে তৈরি করতে পারেন প্রয়োজনিয় বিভিন্ন ডকুমেন্টস্। তাই দেরী না করে বেছে নিন আপনার বিভিন্ন চিঠিপত্র, আবেদপনপত্র, চুক্তিপত্র :
🔍 পার্কি ভাড়ার চুক্তিপত্র কী?
“পার্কি” শব্দটি এসেছে বাংলা শব্দ ‘পারক’ বা ‘অন্যের ব্যবহার’ থেকে। অর্থাৎ, কোনো সম্পত্তি সাময়িকভাবে অন্যের ব্যবহারের জন্য প্রদান করা।
পার্কি ভাড়ার চুক্তিপত্র হলো এমন একটি লিখিত দলিল, যেখানে উল্লেখ থাকে—
- কে কাকে পার্কি দিচ্ছেন,
- কতদিনের জন্য,
- কত টাকায়,
- এবং কোন শর্তে।
এটি একরকম অস্থায়ী ভাড়ার চুক্তি, তবে সাধারণ ভাড়ার চুক্তির থেকে এর পার্থক্য হলো মেয়াদ ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য সীমিত থাকে।

⚖️ পার্কি ভাড়া ও সাধারণ ভাড়ার পার্থক্য
| বিষয় | সাধারণ ভাড়া | পার্কি ভাড়া |
|---|---|---|
| মেয়াদ | ১ বছর বা তার বেশি | ১–৬ মাস (অস্থায়ী) |
| দলিল | লিখিত বা মৌখিক | লিখিত হওয়া জরুরি |
| জামানত | সাধারণত ১–২ মাস | অনেক সময় জামানত ছাড়াই |
| ব্যবহার | বসবাস বা ব্যবসা | সাধারণত অস্থায়ী থাকা বা স্টোরেজ |
| আইনি অধিকার | ভাড়াটিয়ার অধিকার দৃঢ় | সীমিত অধিকার, অস্থায়ী ভিত্তি |
📑 পার্কি ভাড়ার চুক্তিতে যা যা থাকা আবশ্যক
১️. উভয় পক্ষের পূর্ণ নাম ও ঠিকানা
২️. জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর
৩️. বাড়ির সম্পূর্ণ ঠিকানা ও বিবরণ
৪️. পার্কি ভাড়ার মেয়াদ (যেমন ৩ মাস / ৬ মাস)
৫️. প্রদেয় টাকা বা মাসিক পার্কি ভাড়া
৬️. পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাসের বিলের দায়ভার কার উপর থাকবে
৭️. বাসা ছাড়ার সময় কতদিন আগে জানাতে হবে (নোটিশ পিরিয়ড)
৮️. অগ্রিম টাকা (যদি থাকে) ও ফেরতের শর্ত
৯️ সাক্ষীদের নাম, ঠিকানা ও স্বাক্ষর
১০. বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার স্বাক্ষর ও তারিখ
🏗️ পার্কি ভাড়ার চুক্তিপত্রের নমুনা (বাংলা ফরম্যাট)
পার্কি ভাড়ার চুক্তিপত্র
এই চুক্তিপত্রটি আজ __________ তারিখে নিম্নলিখিত দুই পক্ষের মধ্যে সম্পাদিত হলো।
১. পক্ষ-১ (বাড়িওয়ালা):
নাম: ______________________
ঠিকানা: ______________________
এনআইডি: ______________________
২. পক্ষ-২ (ভাড়াটিয়া/পার্কি গ্রহণকারী):
নাম: ______________________
ঠিকানা: ______________________
এনআইডি: ______________________
চুক্তির শর্তাবলী:
১. পক্ষ-১ উক্ত সম্পত্তির মালিক এবং তিনি পক্ষ-২ এর নিকট __________ মাস মেয়াদে পার্কি হিসেবে হস্তান্তর করলেন।
২. পক্ষ-২ প্রতি মাসে _______ টাকা প্রদান করবেন।
৩. পক্ষ-২ সম্পত্তিটি শুধুমাত্র __________ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবেন।
৪. পক্ষ-২ চুক্তির মেয়াদ শেষে বাসাটি খালি করে দেবেন।
৫. কোনো ক্ষতি হলে তার ক্ষতিপূরণ প্রদান করবেন।
৬. পক্ষ-১ ও পক্ষ-২ এর মধ্যে উদ্ভূত যে কোনো বিরোধ স্থানীয় আইনের আওতায় সমাধান করা হবে।
সাক্ষী:
১. নাম: ______________________ স্বাক্ষর: ____________
২. নাম: ______________________ স্বাক্ষর: ____________
পক্ষ-১ স্বাক্ষর: ____________ পক্ষ-২ স্বাক্ষর: ____________
তারিখ: ______________________
👉 এই ফরমটি তুমি showkatbd.com–এর মাধ্যমে অনলাইনেও পূরণযোগ্য করে দিতে পারো।
💬 পার্কি ভাড়ার ক্ষেত্রে প্রচলিত ভুল
১️. মৌখিক চুক্তি: লিখিত প্রমাণ না থাকলে আইনি সুরক্ষা পাওয়া যায় না।
২️. সময় উল্লেখ না করা: “চাইলে বাড়ানো যাবে” এই ধরণের অস্পষ্ট শব্দ ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ।
৩️. অগ্রিম ফেরত নিয়ে দ্বন্দ্ব: চুক্তিতে অগ্রিম ফেরতের শর্ত লিখিত না থাকলে সমস্যা হয়।
৪️. বিদ্যুৎ/গ্যাস বিল নিয়ে বিভ্রান্তি: কে দেবে, তা আগে থেকেই নির্ধারণ করতে হবে।
৫️. সাক্ষী ছাড়া স্বাক্ষর: পরবর্তীতে প্রমাণ জটিল হয়।
⚖️ আইনি বৈধতা
বাংলাদেশের ভাড়াটিয়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ (Premises Rent Control Act) অনুযায়ী, যে কোনো ভাড়ার চুক্তি (পার্কি সহ) লিখিত হলে সেটি প্রমাণযোগ্য দলিল হিসেবে গণ্য হবে। চুক্তিপত্রটি স্ট্যাম্প পেপারে (১০০ টাকার বা তদূর্ধ্ব) প্রিন্ট করা থাকলে সেটি আদালতে বৈধ প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য। তবে নোটারাইজ করা থাকলে সবচেয়ে নিরাপদ।
🧮 করণীয় ও বর্জনীয়
✅ করণীয়
- লিখিত চুক্তি করুন
- মেয়াদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন
- সাক্ষী রাখুন
- চুক্তির কপি স্ক্যান করে রাখুন
❌ বর্জনীয়
- মৌখিকভাবে পার্কি দেওয়া
- অচেনা ব্যক্তিকে দলিল ছাড়া থাকতে দেওয়া
- “মাসিক পার্কি” নাম করে দীর্ঘমেয়াদে রাখা
- বিদ্যুৎ বিল না মেটানো অবস্থায় বাসা ছাড়ানো
⚡ পার্কি ভাড়ার চুক্তিপত্র তৈরির অনলাইন এ্যাপ্লিকেশন
অনলাইনে সহজেই showkatbd.com থেকে ক্লিক সমাধানে তৈরি করতে পারেন প্রয়োজনিয় বিভিন্ন ডকুমেন্টস্। তাই দেরী না করে বেছে নিন আপনার বিভিন্ন চিঠিপত্র, আবেদপনপত্র, চুক্তিপত্র :
📷 পার্কি চুক্তিপত্রের ডিজিটাল সংরক্ষণ টিপস
১. PDF কপি তৈরি করুন
২. Google Drive বা Dropbox-এ আপলোড করুন
৩. QR কোড যুক্ত ফরম ব্যবহার করুন
৪. ইমেইলে কপি পাঠান
৫. চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে নবায়ন করুন
🧠 পার্কি চুক্তিপত্র কেন গুরুত্বপূর্ণ?
১️. দুই পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে
২️. অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা বজায় রাখে
৩️. আইনি ঝামেলা এড়ায়
৪️. দায়িত্ব ও অধিকার স্পষ্ট করে
৫️. প্রতারণা ও দখল সমস্যা রোধ করে
🧾 চেকলিস্ট: পার্কি ভাড়ার চুক্তির আগে যাচাই করুন
| বিষয় | আছে কি না |
|---|---|
| উভয় পক্ষের এনআইডি সংযুক্ত | ✔️ |
| মেয়াদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ | ✔️ |
| ভাড়ার পরিমাণ ও তারিখ নির্দিষ্ট | ✔️ |
| অগ্রিম ফেরতের শর্ত | ✔️ |
| সাক্ষীর নাম ও স্বাক্ষর | ✔️ |
| স্ট্যাম্প পেপারে প্রিন্ট | ✔️ |
| নোটারাইজড কপি | ✔️ |
🧩 বাস্তব উদাহরণ
উদাহরণ ১:
সোহেল সাহেব তিন মাসের জন্য একটি পার্কি বাসায় থাকলেন। চুক্তি ছিল না।
মেয়াদ শেষে বাড়িওয়ালা বাসা খালি করতে বললে তিনি সময় চান।
চুক্তি না থাকায় আদালত বিষয়টি প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেনি।
👉 শিক্ষা: লিখিত দলিল ছাড়া পার্কি নেবেন না।
উদাহরণ ২:
আশরাফ বেগম এক দোকানঘর তিন মাসের জন্য পার্কি দেন। চুক্তিতে সময় ও টাকা স্পষ্টভাবে লেখা ছিল।
মেয়াদ শেষে ভাড়াটিয়া ছাড়তে না চাইলে তিনি আদালতে যান, এবং সহজেই উচ্ছেদ রায় পান।
👉 শিক্ষা: চুক্তি থাকলে আইনি প্রক্রিয়া সহজ হয়।
💡 অনলাইন পার্কি চুক্তিপত্র তৈরি করার সুবিধা
১️. সময় বাঁচে – হাতে লিখতে হয় না
২️. স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ট্যাম্প ও কপি তৈরি হয়
৩️. QR যাচাইকরণ সুবিধা থাকে
৪️. মেইল ও ক্লাউডে কপি সংরক্ষণ করা যায়
৫️. প্রিন্ট করে তাৎক্ষণিক ব্যবহার করা যায়
👉 এই কাজ showkatbd.com–এর মতো ওয়েবসাইটে ফ্রি করা যায়।
📜 পরিশেষে,
“পার্কি ভাড়ার চুক্তিপত্র” একটি ছোট অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। বাংলাদেশে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ অস্থায়ীভাবে বাসা, দোকান বা ঘর ব্যবহার করেন—কিন্তু লিখিত প্রমাণ না থাকায় পরবর্তীতে অনেকেই আইনি জটিলতায় পড়েন। একটি সঠিকভাবে তৈরি পার্কি চুক্তিপত্র আপনার ও অন্যের সময়, অর্থ ও মানসিক চাপ—সবকিছুই বাঁচাতে পারে। তাই আজ থেকেই সিদ্ধান্ত নিন—
“বিশ্বাস থাকবে, লিখিত প্রমাণও থাকবে।”
একটি সঠিক পার্কি চুক্তিপত্রই আপনাকে দেবে সেই নিরাপত্তা।
✍️ নিবন্ধ রচনায়:
DocsInHand.com™
🖨️ ডকুমেন্ট প্রিন্টিং সল্যুশন:
showkatbd.com

