বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্র হলো এমন একটি আইনি দলিল যা বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে পারস্পরিক শর্তাবলী নির্ধারণ করে।
🏠 বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে বাসা ভাড়া এখন এক অনিবার্য বাস্তবতা। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, ব্যবসা কিংবা পারিবারিক কারণে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ নতুন বাসা খুঁজছেন। কিন্তু বাসা নেওয়ার সময় অনেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপেক্ষা করেন — তা হলো বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্র।
এই চুক্তিপত্রই হলো ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালার মধ্যে আইনি সম্পর্কের মূল ভিত্তি। ভুল বোঝাবুঝি, ঝামেলা বা ভবিষ্যতের বিরোধ এড়াতে একটি সঠিক ও আইনসম্মত চুক্তিপত্র থাকা অপরিহার্য।
⚡ বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্র তৈরির অনলাইন সমাধান
অনলাইনে সহজেই showkatbd.com থেকে ক্লিক সমাধানে তৈরি করতে পারেন একটি বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্র। যা তৈরিতে বাঁচবে আপনার সময়। তিই দেরী না করে আপনার বাসা বা ফ্ল্যাটের চুক্তিপত্র তৈরি করুন নিজে নিজেই। চুক্তিপত্র তৈরিতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন :
বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্র : পর্ব ১
🧾 বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্র কী?
বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্র হলো এমন একটি আইনি দলিল যা বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে পারস্পরিক শর্তাবলী নির্ধারণ করে। এতে উল্লেখ থাকে—
- ভাড়ার পরিমাণ
- ভাড়ার মেয়াদ
- অগ্রিম টাকা
- বিল পরিশোধের নিয়ম
- রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব
- বাসা ত্যাগের সময়সীমা
- আইনগত দায় ও অধিকার
এটি সাধারণত লিখিত আকারে (স্ট্যাম্পে) তৈরি করা হয় এবং উভয় পক্ষের স্বাক্ষর ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়।
⚖️ কেন বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্র করা জরুরি
বাংলাদেশে অনেক সময় ভাড়ার সম্পর্ক ‘বিশ্বাসের উপর’ নির্ভর করে হয়, কিন্তু আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে এটি ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, লিখিত চুক্তি না থাকলে কোনো পক্ষই আইনের সঠিক সহায়তা পেতে পারে না। নিচে কিছু মূল কারণ দেওয়া হলো —
- আইনি সুরক্ষা:
চুক্তিপত্র থাকলে উভয় পক্ষই আইনি ভিত্তিতে সুরক্ষিত থাকে। ভবিষ্যতে কোনো বিরোধ হলে আদালতে এই দলিলটি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। - ভুল বোঝাবুঝি রোধ:
ভাড়া, মেয়াদ, বিল, মেরামত বা বাড়ি ছাড়ার সময় নিয়ে পরবর্তীতে কোনো ঝামেলা না হয়, সে নিশ্চয়তা দেয় এই চুক্তি। - দায়বদ্ধতা নির্ধারণ:
কে বিদ্যুৎ, পানি বা গ্যাস বিল দেবে, কে দেয়ালের রঙ করবে, এসব বিষয়ে দায় স্পষ্ট হয়। - নিরাপত্তার অনুভূতি:
ভাড়াটিয়া জানে তার নির্দিষ্ট মেয়াদে বাসা ছাড়ার চাপ আসবে না, আর বাড়িওয়ালাও জানে তার সম্পত্তি অপব্যবহার হবে না।
📜 চুক্তিপত্রের ধরণ
বাংলাদেশে সাধারণত দুই ধরনের ভাড়ার চুক্তি প্রচলিত —
- স্বল্পমেয়াদি (Short-Term Lease):
৬ মাস বা ১ বছরের জন্য করা হয়। মেয়াদ শেষে নবায়ন করা যায়। - দীর্ঘমেয়াদি (Long-Term Lease):
৩ থেকে ৫ বছরের মেয়াদে হয়। সাধারণত অফিস, দোকান বা ব্যবসায়িক স্থাপনায় ব্যবহৃত হয়।
🧠 চুক্তিপত্রে যে বিষয়গুলো অবশ্যই থাকতে হবে
একটি পূর্ণাঙ্গ বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা উচিত —
১. চুক্তির তারিখ ও মেয়াদ
চুক্তি শুরুর তারিখ এবং কত মাস বা বছর পর্যন্ত তা কার্যকর থাকবে, স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
২. পক্ষদ্বয়ের পূর্ণ নাম ও ঠিকানা
- বাড়িওয়ালার নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও ঠিকানা
- ভাড়াটিয়ার নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও স্থায়ী ঠিকানা
৩. ভাড়ার পরিমাণ ও পরিশোধ পদ্ধতি
- প্রতি মাসে কত টাকা ভাড়া দিতে হবে
- কোন তারিখে ভাড়া প্রদান করতে হবে
- ব্যাংক, বিকাশ, নগদ, বা হাতে—কোন মাধ্যমে প্রদান করা হবে
৪. অগ্রিম (Security Deposit)
অনেক সময় ১–২ মাসের ভাড়া অগ্রিম নেওয়া হয়। তা ফেরতের শর্তও চুক্তিতে উল্লেখ করা জরুরি।
৫. বিল ও রক্ষণাবেক্ষণ
বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, সার্ভিস চার্জ, মেরামত—এসবের দায় কে বহন করবে তা নির্দিষ্ট থাকতে হবে।
৬. বাসা ত্যাগের নোটিশ
ভাড়াটিয়া বা বাড়িওয়ালা বাসা ছাড়তে চাইলে কমপক্ষে ৩০ দিন আগে লিখিত নোটিশ দিতে হবে—এ নিয়মটি সাধারণত চুক্তিতে থাকে।
৭. শর্তভঙ্গের দায়
চুক্তির কোনো শর্ত ভঙ্গ হলে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে—তা উল্লেখ করতে হবে।
৮. সাক্ষীর স্বাক্ষর
কমপক্ষে দুইজন সাক্ষী (একজন বাড়িওয়ালার পক্ষ থেকে, একজন ভাড়াটিয়ার পক্ষ থেকে) স্বাক্ষর করবেন।
🏛️ আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বাসা ভাড়ার চুক্তি
বাংলাদেশে ভাড়ার সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করে The Premises Rent Control Act, 1991 (বাংলাদেশ ভবন ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১)।
এই আইনে ভাড়ার হার, উচ্ছেদ প্রক্রিয়া, বাড়িওয়ালার অধিকার ও ভাড়াটিয়ার সুরক্ষার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে বলা আছে।
আইনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো—
- বাড়িওয়ালা ন্যায্য কারণ ছাড়া ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ করতে পারেন না।
- ভাড়াটিয়া নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করলে তার দখল অধিকার থাকে।
- ভাড়ার বৃদ্ধি যুক্তিসঙ্গত হতে হবে এবং পূর্ব নোটিশ দিতে হবে।
- ভাড়াটিয়া বাসার ক্ষতি করলে বা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে বাড়িওয়ালা আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন।
⚙️ চুক্তিপত্র তৈরি করার ধাপ
একটি বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্র তৈরি করার সাধারণ ধাপগুলো হলো —
- তথ্য সংগ্রহ: উভয় পক্ষের নাম, ঠিকানা, পরিচয়পত্র নম্বর ইত্যাদি সংগ্রহ করুন।
- শর্ত নির্ধারণ: ভাড়া, বিল, মেয়াদ, অগ্রিম, রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি বিষয় পরিষ্কার করুন।
- ড্রাফট তৈরি: Word বা Google Docs-এ প্রাথমিক খসড়া তৈরি করুন।
- স্ট্যাম্পে লিখন: চূড়ান্ত লেখাটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে (৩০০/৫০০ টাকার) প্রিন্ট করুন।
- স্বাক্ষর ও সাক্ষী: উভয় পক্ষ ও সাক্ষীদের স্বাক্ষর নিন।
- এক কপি সংরক্ষণ: বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া উভয়েই একটি করে কপি সংরক্ষণ করবেন।
বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্র : পর্ব ২
✍️ নমুনা বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্র (বাংলা ফরম্যাটে)
নিচে একটি বাস্তবসম্মত ও আইনগত কাঠামো অনুযায়ী বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্রের নমুনা দেওয়া হলো। এটি আপনি Word বা PDF আকারে তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন।
🔶 বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্র
চুক্তিপত্র নম্বর: ০০১/২০২৫
তারিখ: ০১ জানুয়ারি ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
এই চুক্তিপত্রটি সম্পাদিত হলো একদিকে জনাব মোঃ হাফিজুর রহমান, পিতা – আব্দুল হক, জাতীয় পরিচয়পত্র নং ১২৩৪৫৬৭৮৯০, বর্তমান ঠিকানা – ১২৩, ধানমন্ডি, ঢাকা (যিনি পরবর্তীতে “বাড়িওয়ালা” নামে অভিহিত হবেন) এবং অন্যদিকে জনাব আব্দুর রহমান, পিতা – মোঃ আমানুল্লাহ, জাতীয় পরিচয়পত্র নং ৯৮৭৬৫৪৩২১০, বর্তমান ঠিকানা – ৪৫, বসুন্ধরা, ঢাকা (যিনি পরবর্তীতে “ভাড়াটিয়া” নামে অভিহিত হবেন)-এর মধ্যে নিম্নলিখিত শর্তাবলীর ভিত্তিতে সম্পাদিত হলো:
১️. চুক্তির উদ্দেশ্য
বাড়িওয়ালা সম্মত হয়েছেন যে তিনি তাঁর মালিকানাধীন বাসার (ঠিকানা – ১২৩, ধানমন্ডি, ঢাকা, ফ্ল্যাট নং এ/৩, ৫ম তলা) সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটটি ভাড়াটিয়ার নিকট ভাড়া দিবেন বসবাসের উদ্দেশ্যে।
২️. মেয়াদ
এই চুক্তি ০১ জানুয়ারি ২০২৫ হতে কার্যকর হয়ে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত এক বছরের জন্য বলবৎ থাকবে। মেয়াদ শেষে উভয় পক্ষের সম্মতিতে নবায়ন করা যাবে।
৩️. ভাড়ার পরিমাণ ও প্রদানের নিয়ম
প্রতি মাসের ভাড়া ২৫,০০০ টাকা (পঁচিশ হাজার টাকা) নির্ধারিত হলো।
ভাড়াটিয়া প্রতি মাসের তারিখ ৫ তারিখের মধ্যে নগদ/বিকাশ/ব্যাংকের মাধ্যমে বাড়িওয়ালাকে পরিশোধ করবেন।
৪️. অগ্রিম টাকা
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ভাড়াটিয়া ৫০,০০০ টাকা (দুই মাসের ভাড়া সমপরিমাণ) অগ্রিম হিসেবে প্রদান করেছেন, যা বাসা ত্যাগের সময় হিসাবের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হবে।
৫️. বিল ও অন্যান্য চার্জ
- বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ইন্টারনেট ও সার্ভিস চার্জ ভাড়াটিয়া বহন করবেন।
- ফ্ল্যাটের যেকোনো ক্ষতি বা ভাঙচুর হলে মেরামতের দায় ভাড়াটিয়ার থাকবে।
- বড় ধরনের সংস্কার বা রঙের কাজ বাড়িওয়ালা করবেন।
৬️. বাসা ত্যাগের নোটিশ
উভয় পক্ষই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বাসা ত্যাগ বা বাতিল করতে চাইলে ৩০ দিনের লিখিত নোটিশ দিতে হবে।
৭️. শর্তভঙ্গের পরিণতি
চুক্তির কোনো শর্ত ভঙ্গ করলে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ আদালতের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে।
৮️. সাক্ষী
নিম্নস্বাক্ষরিত সাক্ষীগণ উক্ত চুক্তিপত্রের সত্যতা নিশ্চিত করছেন।
সাক্ষী-১: ____________________
নাম: রুবেল আহমেদ
ঠিকানা: ধানমন্ডি, ঢাকা
স্বাক্ষর: __________
সাক্ষী-২: ____________________
নাম: রুবিনা সুলতানা
ঠিকানা: মোহাম্মদপুর, ঢাকা
স্বাক্ষর: __________
বাড়িওয়ালার স্বাক্ষর: ____________________
নাম: মোঃ হাফিজুর রহমান
তারিখ: __________
ভাড়াটিয়ার স্বাক্ষর: ____________________
নাম: শওকত আকবর
তারিখ: __________
🖋️ উপরের চুক্তিপত্র ব্যাখ্যা
এই ফরম্যাটে আপনি নিজের তথ্য অনুযায়ী পরিবর্তন করে ব্যবহার করতে পারেন। নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
✅ মেয়াদ উল্লেখ
মেয়াদ যত পরিষ্কারভাবে লেখা থাকবে, তত কম ঝুঁকি। অনেক সময় “পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত” এ ধরনের অস্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করা হয়, যা ভবিষ্যতে ঝামেলার কারণ হয়।
✅ বিল ও রক্ষণাবেক্ষণ
এই অংশে স্পষ্ট করে লেখা উচিত কে কোন খরচ দেবে। যেমন – সার্ভিস চার্জ, লিফট মেরামত, গ্যাসের বিল ইত্যাদি। এগুলো চুক্তিতে না থাকলে ভবিষ্যতে তর্ক-বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
✅ সাক্ষীর ভূমিকা
সাক্ষীরা গুরুত্বপূর্ণ কারণ তারা চুক্তির প্রমাণ হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দিতে পারেন। তাই তাদের স্বাক্ষর থাকা অত্যাবশ্যক।
⚠️ চুক্তিপত্র তৈরিতে সাধারণ ভুলগুলো
বাসা ভাড়ার চুক্তি করতে গিয়ে কিছু সাধারণ ভুল অনেকেই করে থাকেন। নিচে সেই ভুলগুলো এবং সমাধান দেওয়া হলো:
১️. লিখিত চুক্তি না করা
অনেকে মুখে বলে চুক্তি করেন। এটা সবচেয়ে বড় ভুল। আইন অনুযায়ী লিখিত ও স্বাক্ষরিত দলিল ছাড়া কোনো পক্ষের দাবি টেকসই নয়।
২️. মেয়াদ উল্লেখ না থাকা
চুক্তিতে নির্দিষ্ট সময় না থাকলে ভাড়াটিয়া বা বাড়িওয়ালার পক্ষে কোনো পক্ষকে সহজে উচ্ছেদ বা মামলা করা যায় না।
৩️. অগ্রিম ফেরতের শর্ত বাদ দেওয়া
অনেকে “অগ্রিম টাকা ফেরতযোগ্য নয়” এমন লিখে দেন, যা অনেক সময় ভাড়াটিয়ার ক্ষতির কারণ হয়। অগ্রিম ফেরতের স্পষ্ট শর্ত লিখতে হবে।
৪️. বিল/চার্জ নির্ধারণ না করা
বিদ্যুৎ বা গ্যাস বিল কে দেবে, তা স্পষ্ট না থাকলে অনেক সময় পরিশোধ নিয়ে বিবাদ হয়।
৫️. সাক্ষী ছাড়া চুক্তি
চুক্তিতে দুই পক্ষ থাকলেই যথেষ্ট নয় — সাক্ষী থাকা জরুরি। প্রয়োজনে সাক্ষীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি সংযুক্ত করা ভালো।
🧩 আইনি দিক থেকে স্ট্যাম্পে লেখার প্রয়োজনীয়তা
বাংলাদেশে যেকোনো ভাড়ার চুক্তিপত্র নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখতে হয়। সাধারণভাবে ৩০০ টাকা বা ৫০০ টাকার স্ট্যাম্পে চুক্তি করা হয়। এই স্ট্যাম্পে লিখলে দলিলটি আইনি প্রমাণ হিসেবে আদালতে গ্রহণযোগ্য হয়। কোনো কাগজে বা প্রিন্ট আউটে চুক্তি করলে তা আদালতে দুর্বল প্রমাণ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
💡 বাস্তব পরামর্শ
- চুক্তি শেষে দুই পক্ষের একটি করে কপি রাখা বাধ্যতামূলক।
- চুক্তির সফট কপি (PDF) মোবাইল বা ইমেইলে সংরক্ষণ করুন।
- ভাড়ার রশিদ সবসময় সংরক্ষণ করুন।
বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্র : পর্ব ৩
💻 অনলাইনে বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্র তৈরির আধুনিক উপায়
বর্তমান ডিজিটাল যুগে আপনি চাইলে ঘরে বসেই অনলাইনে পুরো ভাড়ার চুক্তিপত্র তৈরি, ডাউনলোড ও প্রিন্ট করতে পারেন। এতে সময় বাঁচে, ভুল কম হয় এবং দলিল আরও পরিপাটি হয়। নিচে ধাপে ধাপে প্রক্রিয়াটি দেওয়া হলো:
🔹 ধাপ ১: সঠিক ওয়েবসাইট নির্বাচন
বাংলাদেশে এখন অনেক ওয়েবসাইট আছে যেখানে অনলাইনে আইনি ডকুমেন্ট তৈরি করা যায়। উদাহরণস্বরূপ:
- showkatbd.com – যেখানে বিনামূল্যে ফরম পূরণ করে চুক্তিপত্র তৈরি করা যায়। যেমন: বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্র
- docsinhand.com – প্রফেশনাল ডকুমেন্ট তৈরি এবং সকল ডকুমেন্টের বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়।
- eforms.com – আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে চুক্তি তৈরির সুযোগ আছে।
🔹 ধাপ ২: তথ্য পূরণ করা
showkatbd.com ওয়েবসাইট থেকে বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্র তে ক্লিক করলে একটি ফর্ম আসবে, যেখানে আপনাকে নিচের তথ্যগুলো দিতে হবে:
- বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার নাম ও ঠিকানা
- চুক্তির মেয়াদ
- মাসিক ভাড়া ও অগ্রিম
- বিল প্রদানের শর্ত
- বাসা ছাড়ার সময়সীমা
ফর্ম পূরণ শেষে “Print” বা “Generate” বা “Create Document” বাটনে ক্লিক করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চুক্তিপত্র তৈরি হবে।
🔹 ধাপ ৩: প্রিন্ট ও স্বাক্ষর
চুক্তিপত্রটি PDF বা Word ফরম্যাটে ডাউনলোড করে নিতে পারেন।
তারপর নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে প্রিন্ট করে বাড়িওয়ালা, ভাড়াটিয়া এবং দুইজন সাক্ষীর স্বাক্ষর দিন।
👉 অনেকে অনলাইন চুক্তিকে শুধু প্রিন্ট করে ব্যবহার করেন—তবে আইনি প্রমাণের জন্য স্ট্যাম্পে প্রিন্ট করা বাধ্যতামূলক।
🔹 ধাপ ৪: কপি সংরক্ষণ
চুক্তি স্বাক্ষর শেষে উভয় পক্ষের হাতে একটি করে হার্ডকপি ও সফটকপি থাকা উচিত। গুগল ড্রাইভ, ইমেইল বা ক্লাউডে সংরক্ষণ করলে হারিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে না।
⚖️ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা
যদিও সাধারণ চুক্তি অনলাইনেই করা যায়, তবে কিছু ক্ষেত্রে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া ভালো। যেমন:
- বাসাটি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হবে
- ভাড়ার পরিমাণ বড় (১ লক্ষ টাকার বেশি)
- একাধিক ভাড়াটিয়া বা যৌথ চুক্তি থাকলে
- পূর্বে কোনো ভাড়ার মামলা বা আইনি জটিলতা থাকলে
একজন আইনজীবী দলিলের শব্দচয়ন ও আইনি ধারা সঠিকভাবে বসিয়ে দেন, যা ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ।
🔁 চুক্তি নবায়নের নিয়ম
ভাড়ার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর উভয় পক্ষ চাইলে চুক্তি নবায়ন করতে পারে। নবায়নের সময় কিছু নিয়ম মানা ভালো:
- পূর্ব নোটিশ:
মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩০ দিন আগে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া উভয়েই নবায়নের আগ্রহ জানাতে পারেন। - লিখিত সম্মতি:
আগের চুক্তির কপি রেখে নতুন মেয়াদ ও নতুন ভাড়ার পরিমাণ লিখে পুনরায় স্বাক্ষর করতে হয়। - ভাড়ার বৃদ্ধি:
বাংলাদেশের “Premises Rent Control Act, 1991” অনুযায়ী, বাড়িওয়ালা যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া অযৌক্তিকভাবে ভাড়া বাড়াতে পারেন না। সাধারণত প্রতি বছর ৫%–১০% পর্যন্ত বৃদ্ধি ন্যায্য ধরা হয়। - পুরোনো অগ্রিম ফেরত:
নবায়নের সময় পূর্বের অগ্রিম হিসাব করে পুনরায় সেটেলমেন্ট করা উচিত।
⚖️ ভাড়াটিয়ার অধিকার (Tenant’s Rights)
বাংলাদেশের ভাড়াটিয়া আইন অনুযায়ী ভাড়াটিয়ার কিছু মৌলিক অধিকার রয়েছে, যা জানা জরুরি।
✅ ১. ভাড়ার রসিদ পাওয়ার অধিকার
প্রতি মাসে ভাড়া পরিশোধের সময় রসিদ নেওয়া ভাড়াটিয়ার অধিকার। বাড়িওয়ালা রসিদ না দিলে এটি আইনি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
✅ ২. ন্যায্য উচ্ছেদ প্রক্রিয়া
বাড়িওয়ালা ইচ্ছেমতো ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ করতে পারেন না।
শুধুমাত্র নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে আদালতের মাধ্যমে উচ্ছেদ সম্ভব—
- ভাড়াটিয়া ৩ মাস বা তার বেশি ভাড়া পরিশোধে ব্যর্থ হলে
- বাসার ক্ষতি বা অপব্যবহার করলে
- অন্য কারো কাছে অবৈধভাবে ভাড়া দিলে
✅ ৩. নিরাপদ পরিবেশ পাওয়ার অধিকার
ভাড়াটিয়া এমন পরিবেশে বসবাসের অধিকার রাখেন যা নিরাপদ, বাসযোগ্য ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন।
✅ ৪. গোপনীয়তার অধিকার
বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়ার অনুমতি ছাড়া হঠাৎ করে বাসায় প্রবেশ করতে পারেন না। এটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন।
🏘️ বাড়িওয়ালার অধিকার (Landlord’s Rights)
অন্যদিকে, বাড়িওয়ালারও কিছু অধিকার আছে যা চুক্তিতে উল্লেখ থাকা উচিত।
✅ ১. সময়মতো ভাড়া প্রাপ্তি
ভাড়াটিয়া নির্ধারিত তারিখে ভাড়া না দিলে বাড়িওয়ালা নোটিশ দিতে বা আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন।
✅ ২. বাসার রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা
যদি ভাড়াটিয়া বাসা নষ্ট করেন বা নিয়ম ভঙ্গ করেন, তবে বাড়িওয়ালা ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন।
✅ ৩. চুক্তি ভঙ্গের অধিকার
যদি ভাড়াটিয়া চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেন, তাহলে বাড়িওয়ালা নির্দিষ্ট সময়ের নোটিশ দিয়ে চুক্তি বাতিল করতে পারেন।
🔐 উভয় পক্ষের পারস্পরিক দায়িত্ব
💠 ভাড়াটিয়ার দায়িত্ব:
- নিয়মিত ভাড়া প্রদান করা
- বাসার যত্ন নেওয়া
- প্রতিবেশীদের প্রতি সম্মান দেখানো
- বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল সময়মতো পরিশোধ
💠 বাড়িওয়ালার দায়িত্ব:
- বাসার মৌলিক সুবিধা (পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ) সচল রাখা
- চুক্তি মেয়াদে ভাড়াটিয়াকে অযথা উচ্ছেদ না করা
- প্রয়োজনীয় মেরামতের ব্যবস্থা করা
⚡ চুক্তি সংক্রান্ত টিপস (Expert Tips)
১. প্রতি চুক্তিতে বাসার ছবি সংযুক্ত করুন – কোন অবস্থায় বাসা দেওয়া হলো তা প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগে।
২. চুক্তির ডিজিটাল কপি রাখুন – ফোন হারালেও Google Drive-এ থাকলে নিরাপদ।
৩. প্রতিবার নবায়নে নতুন সাক্ষী দিন – আগের সাক্ষী অনুপস্থিত থাকলে সমস্যা হয় না।
৪. ভাড়া পরিশোধের মাধ্যম স্পষ্ট করুন – ব্যাংক, বিকাশ, বা নগদ—যেভাবেই দিন, প্রমাণ রাখুন।
বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্র : পর্ব ৪ (শেষ পর্ব)
⚖️ সাধারণ আইনি সমস্যা ও তাদের সমাধান
বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্র থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় নানা ধরনের ঝামেলা দেখা দেয়। নিচে বাস্তবে দেখা কিছু সাধারণ সমস্যা এবং আইনগত সমাধান দেওয়া হলো।
১️. ভাড়া না পাওয়া বা দেরিতে পরিশোধ
এটি সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা। অনেক সময় ভাড়াটিয়া নিয়মিত ভাড়া দেন না বা বারবার বিলম্ব করেন।
সমাধান:
প্রথমে ভাড়াটিয়াকে লিখিত নোটিশ দিন।
যদি এরপরও সমাধান না হয়, তাহলে নিকটস্থ থানায় লিখিত অভিযোগ করন।
প্রয়োজনে স্মল কজ কোর্টে (Small Cause Court) মামলা করা যায়।
২️. বাসা ছাড়তে অনীহা
ভাড়াটিয়া মেয়াদ শেষ হলেও বাসা ছাড়তে না চাইলে কী করবেন?
সমাধান:
চুক্তিতে যদি মেয়াদ ও নোটিশ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে, তবে বাড়িওয়ালা প্রথমে লিখিতভাবে ৩০ দিনের নোটিশ দেবেন। নির্দিষ্ট সময়েও বাসা না ছাড়লে উচ্ছেদ মামলা করা যাবে। আদালত নোটিশ ও চুক্তির প্রমাণ দেখে রায় দেন।
৩️. ভাড়াটিয়া দ্বারা ক্ষতি বা অপব্যবহার
কখনও কখনও ভাড়াটিয়া বাসার দেয়াল, টাইলস, দরজা-জানালা নষ্ট করে ফেলেন বা অন্য কাজে ব্যবহার করেন।
সমাধান:
চুক্তিপত্রে “বাসার ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে” — এই ধারা থাকতে হবে।
ক্ষতির ছবি ও ভিডিও প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করুন।
প্রয়োজনে স্থানীয় থানায় জিডি (General Diary) করতে পারেন, এবং পরে ক্ষতিপূরণের মামলা করা সম্ভব।
৪️. বাড়িওয়ালার হয়রানি বা অযথা চাপ
বাড়িওয়ালা কখনও হয়রানি করে বা বারবার বাড়ি ছাড়ার চাপ দেন — যা ভাড়াটিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করে।
সমাধান:
ভাড়াটিয়া প্রথমে লিখিত অভিযোগপত্র দিয়ে স্থানীয় থানায় জানাতে হবে। থানার কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী তদন্ত করবে অত:পর রায় নির্ধারল হবে।
⚠️ চুক্তিপত্র জাল বা ভুয়া হলে
কোনো পক্ষ ভুয়া স্বাক্ষর বা মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করলে এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ (Penal Offence)। দণ্ডবিধির ৪৬৩–৪৬৮ ধারায় জাল দলিলের শাস্তি হিসেবে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তাই সবসময় স্বাক্ষর করার আগে নাম, এনআইডি, ও তারিখ ভালোভাবে যাচাই করুন।
📂 চুক্তিপত্রের ডিজিটাল সুরক্ষা
বর্তমান সময়ে চুক্তিপত্রের হার্ডকপি হারিয়ে যাওয়া বা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই ডিজিটাল সংরক্ষণ অপরিহার্য।
💾 নিরাপদ সংরক্ষণের উপায়
- স্ক্যান করে PDF বানান: মোবাইল স্ক্যানার অ্যাপ (CamScanner, Adobe Scan ইত্যাদি) দিয়ে চুক্তিপত্র স্ক্যান করুন।
- গুগল ড্রাইভ বা ড্রপবক্সে রাখুন: ফাইল হারিয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
- ইমেইল করে রাখুন: নিজের ও বাড়িওয়ালার ইমেইলে কপি পাঠালে প্রয়োজনে যেকোনো সময় পাওয়া যাবে।
💬 বাস্তব উদাহরণ
উদাহরণ ১:
রুমান সাহেব মিরপুরে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন মৌখিকভাবে। তিন মাস পর বাড়িওয়ালা তাকে এক সপ্তাহের মধ্যে বাসা ছাড়তে বলেন।
লিখিত চুক্তি না থাকায় তিনি আইনি সুরক্ষা পাননি।
👉 শিক্ষা: লিখিত চুক্তি না করলে কোনো পক্ষ আদালতে নিজের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না।
উদাহরণ ২:
আনিকা বেগম চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে ২০,০০০ টাকা ভাড়া দিতেন। বাড়িওয়ালা হঠাৎ ভাড়া ২৫,০০০ টাকা দাবি করেন।
তিনি “Premises Rent Control Act” অনুযায়ী রেন্ট কন্ট্রোলারের কাছে অভিযোগ করেন, এবং আদালত আগের ভাড়াকেই বৈধ ঘোষণা করে।
👉 শিক্ষা: আইনের সঠিক ব্যবহার জানলে ভাড়াটিয়া নিজের অধিকার রক্ষা করতে পারেন।
🧾 চুক্তিপত্রের সংক্ষিপ্ত চেকলিস্ট
ভাড়ার চুক্তি তৈরি করার আগে বা পরে নিচের চেকলিস্টটি যাচাই করে নিন ⬇️
| বিষয় | চেক ✔️ |
|---|---|
| উভয় পক্ষের পূর্ণ নাম, এনআইডি, ঠিকানা আছে কি? | ✔️ |
| চুক্তির মেয়াদ ও শুরু/শেষ তারিখ উল্লেখ আছে? | ✔️ |
| ভাড়ার পরিমাণ ও প্রদানের নিয়ম লেখা আছে? | ✔️ |
| অগ্রিম ফেরতের শর্ত স্পষ্ট আছে? | ✔️ |
| বিল ও চার্জ কে বহন করবে তা বলা আছে? | ✔️ |
| বাসা ছাড়ার সময়সীমা (নোটিশ পিরিয়ড) দেওয়া আছে? | ✔️ |
| দুইজন সাক্ষীর স্বাক্ষর আছে? | ✔️ |
| স্ট্যাম্প পেপারে প্রিন্ট করা হয়েছে? | ✔️ |
| কপি সংরক্ষিত আছে (PDF বা ইমেইলে)? | ✔️ |
🧠 গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
- 🕒 চুক্তি নবায়নের সময় পুরোনো শর্ত পুনরায় যাচাই করুন।
- 💰 অগ্রিম ও জামানতের রসিদ সবসময় লিখিতভাবে রাখুন।
- 📸 বাসা নেওয়ার আগে ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণ করুন — পরে ক্ষতির অভিযোগে এটি প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।
- 📄 ফর্ম পূরণের সময় বানান ও তারিখ ভালোভাবে দেখুন।
- ⚡ কোনো পক্ষ মারা গেলে চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না—উত্তরাধিকারী পক্ষ দলিল বহাল রাখতে পারে।
- 📞 প্রয়োজনে স্থানীয় থানায় বা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে নোটারাইজড কপি রাখুন।
⚡ বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্র তৈরির অনলাইন সমাধান
অনলাইনে সহজেই showkatbd.com থেকে ক্লিক সমাধানে তৈরি করতে পারেন একটি বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্র। যা তৈরিতে বাঁচবে আপনার সময়। তিই দেরী না করে আপনার বাসা বা ফ্ল্যাটের চুক্তিপত্র তৈরি করুন নিজে নিজেই। চুক্তিপত্র তৈরিতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন :
📜 অত:পর,
বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্র শুধু একটি কাগজ নয় — এটি দায়িত্ব, অধিকার ও নিরাপত্তার প্রতীক। বাংলাদেশের শহুরে জীবনে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বাসা বদল করেন, কিন্তু খুব কম মানুষই সঠিকভাবে লিখিত চুক্তি করে।
ফলাফল: ভুল বোঝাবুঝি, আর্থিক ক্ষতি, এবং আইনি জটিলতা।
একটি ছোট্ট কাগজ — যেখানে স্পষ্টভাবে লেখা থাকবে কার অধিকার কোথায় শেষ, এবং অন্যের অধিকার কোথায় শুরু — সেটিই হতে পারে বড় ঝামেলা থেকে মুক্তির চাবিকাঠি।
তাই আপনি যদি ভাড়াটিয়া হন, চুক্তি ছাড়া কখনো বাসায় উঠবেন না।
আর আপনি যদি বাড়িওয়ালা হন, নিজের সম্পত্তির নিরাপত্তার জন্য লিখিত দলিল ছাড়া কাউকে ভাড়া দেবেন না।
আজ থেকেই সিদ্ধান্ত নিন —
“বিশ্বাস থাকবে, সাথে প্রমাণও থাকবে।”
একটি সঠিক বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্রই আপনাকে সেই প্রমাণ দেবে।
🖊️ লেখা ও গবেষণা:
DocsInHand.com™
| docsinhand.com |
🖨️ ডকুমেন্ট প্রিন্টিং সল্যুশন:
showkatbd.com |

