যৌথ ব্যবসার চুক্তিপত্র | সম্পূর্ণ গাইড, নমুনা, প্রিন্ট সমাধান

🧾 যৌথ ব্যবসার চুক্তিপত্র | সম্পূর্ণ গাইড, নমুনা, প্রিন্ট সমাধান


আজকের ব্যবসায়িক বিশ্বে আস্থা বা মুখের কথার উপর নির্ভর করে কোনো বড় লেনদেন করা আগের মতো নিরাপদ নয়। ছোট বা বড় যেকোনো ধরনের ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব, পণ্য ক্রয়-বিক্রয়, পরিষেবা বিনিময়, অথবা বিনিয়োগ সংক্রান্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে লিখিত বিজনেস চুক্তিপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

দুইজন ব্যবসায়ি যখন কোনো যৌথ ব্যবসা শুরু করতে চান, তখন তাঁদের মধ্যে কে কত টাকা বিনিয়োগ করবেন, লাভ-লোকসান কীভাবে ভাগ হবে, দায়-দায়িত্ব কার উপর থাকবে—এসব বিষয় আগে থেকেই পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত। আর এই স্বচ্ছতার জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো একটি আইনগতভাবে প্রযোজ্য ব্যবসায়িক চুক্তিপত্র (Business Agreement)

⚡ যৌথ ব্যবসার চুক্তিপত্র তৈরি করুন ক্লিকেই

অনলাইনে সহজেই showkatbd.com থেকে ক্লিক সমাধানে তৈরি করতে পারেন যৌথ ব্যবসার চুক্তিপত্র। নিচের বাটনে ক্লিক করুন :

এই লেখায় আমরা আলোচনা করবো—

  • বিজনেস চুক্তিপত্র কী
  • কেন এটি জরুরি
  • এতে কী কী বিষয় থাকতে হয়
  • একটি পূর্ণাঙ্গ নমুনা চুক্তিপত্র
  • চুক্তি করার সময় গুরুত্বপূর্ণ টিপস
  • এবং অনলাইনে কিভাবে সহজে নিজের চুক্তিপত্র তৈরি করা যায়

🔍 বিজনেস চুক্তিপত্র কী?

বিজনেস চুক্তিপত্র (Business Agreement) হলো একটি লিখিত বা ডিজিটাল দলিল, যেখানে দুই বা ততোধিক ব্যবসায়ি বা প্রতিষ্ঠান পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট শর্তাবলি অনুসারে কাজ করার অঙ্গীকার করে।

এই দলিলের মাধ্যমে উভয় পক্ষের অধিকার, দায়িত্ব, আর্থিক অংশগ্রহণ, এবং চুক্তি বাতিলের নিয়মাবলি নির্ধারিত থাকে। এটি একদিকে ব্যবসায়িক সম্পর্ককে আইনি কাঠামো দেয়, অন্যদিকে ভবিষ্যতের দ্বন্দ্ব ও ভুল বোঝাবুঝি থেকে রক্ষা করে।


📘 কেন বিজনেস চুক্তিপত্র জরুরি?

১. বিশ্বাস ও স্বচ্ছতা বজায় রাখে
চুক্তিপত্রে প্রতিটি দিক স্পষ্টভাবে লিখিত থাকে বলে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ কমে যায়।

২. আইনি সুরক্ষা দেয়
কোনো পক্ষ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে চুক্তিপত্র আদালতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

৩. আর্থিক দায় নির্ধারণ করে
কে কত টাকা বিনিয়োগ করবেন, কীভাবে লাভ-লোকসান ভাগ হবে—সব কিছু নির্দিষ্ট করা যায়।

৪. দায়িত্ব ভাগ করে দেয়
ব্যবসার প্রতিটি অংশের দায়িত্ব কার, তা নির্ধারণ করা যায়।

৫. চুক্তি ভঙ্গের নিয়ম নির্ধারণ করে
কোন পরিস্থিতিতে চুক্তি বাতিল হবে, তা আগেই লেখা থাকে।


যৌথ ব্যবসার চুক্তিপত্র | সম্পূর্ণ গাইড, নমুনা, প্রিন্ট সমাধান

⚙️ বিজনেস চুক্তিপত্রে যে বিষয়গুলো থাকা আবশ্যক

একটি সঠিক বিজনেস চুক্তিপত্রে নিচের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত—

  1. চুক্তির তারিখ ও স্থান
  2. পক্ষগুলোর নাম, ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র বা ট্রেড লাইসেন্স নম্বর
  3. ব্যবসার উদ্দেশ্য ও প্রকৃতি
  4. বিনিয়োগ ও মূলধনের পরিমাণ
  5. লাভ-লোকসানের বণ্টন পদ্ধতি
  6. দায়িত্ব বণ্টন ও কাজের ক্ষেত্র
  7. ব্যাংক হিসাব ও অর্থ ব্যবস্থাপনা
  8. চুক্তির মেয়াদ
  9. বাতিলের শর্ত ও প্রক্রিয়া
  10. গোপনীয়তা (Confidentiality Clause)
  11. বিবাদ নিষ্পত্তি পদ্ধতি (Dispute Resolution)
  12. স্বাক্ষর ও সাক্ষীদের নাম

🧮 একটি বাস্তব উদাহরণ: দুইজন ব্যবসায়ির মধ্যে চুক্তিপত্রের নমুনা

নিচে একটি স্ট্যান্ডার্ড বিজনেস পার্টনারশিপ চুক্তিপত্রের নমুনা দেওয়া হলো যা আপনি নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারেন (নাম, তারিখ ও শর্ত অনুযায়ী পরিবর্তনযোগ্য)।


✍️ বিজনেস চুক্তিপত্র (Sample Agreement)

চুক্তির তারিখ: ০১ জানুয়ারি ২০২৫
স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ

পক্ষ-১:
নাম: মোঃ হাসান রহমান
ঠিকানা: ১২৩, নিউ মার্কেট, ঢাকা
জাতীয় পরিচয়পত্র নং: ১৯৯০xxxxxxxx
এখন থেকে “প্রথম পক্ষ” নামে উল্লেখ করা হবে।

পক্ষ-২:
নাম: মোঃ কামরুল ইসলাম
ঠিকানা: ৪৫, মিরপুর রোড, ঢাকা
জাতীয় পরিচয়পত্র নং: ১৯৯২xxxxxxxx
এখন থেকে “দ্বিতীয় পক্ষ” নামে উল্লেখ করা হবে।

উভয় পক্ষ পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে নিম্নলিখিত শর্তাবলির উপর ভিত্তি করে একটি যৌথ ব্যবসায়িক চুক্তিতে সম্মত হন।


ধারা ১: ব্যবসার নাম ও উদ্দেশ্য

এই চুক্তির আওতায় “HK Traders” নামে একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে যার মূল উদ্দেশ্য হলো পাইকারি পরিমাণে ইলেকট্রনিক পণ্য আমদানি ও বিক্রয়।

ধারা ২: বিনিয়োগ

প্রথম পক্ষ মোট মূলধনের ৬০% এবং দ্বিতীয় পক্ষ ৪০% বিনিয়োগ করবেন।

ধারা ৩: লাভ-লোকসান বণ্টন

প্রতি অর্থবছরের শেষে নিট লাভ/লোকসান একই অনুপাতে ভাগ করা হবে (৬০:৪০)।

ধারা ৪: দায়িত্ব বণ্টন

  • প্রথম পক্ষ পণ্য ক্রয়, আমদানি ও হিসাবরক্ষণ দেখবেন।
  • দ্বিতীয় পক্ষ বিক্রয়, বিপণন ও কাস্টমার রিলেশন পরিচালনা করবেন।

ধারা ৫: ব্যাংক হিসাব

ব্যবসার নামে একটি যৌথ ব্যাংক হিসাব খোলা হবে এবং দুই পক্ষের স্বাক্ষরে অর্থ উত্তোলন করা যাবে।

ধারা ৬: চুক্তির মেয়াদ

এই চুক্তি প্রথম পর্যায়ে ৩ বছরের জন্য বলবৎ থাকবে, পরে উভয় পক্ষের সম্মতিতে নবায়নযোগ্য।

ধারা ৭: চুক্তি বাতিল

যদি কোনো পক্ষ শর্ত ভঙ্গ করেন, অপর পক্ষ লিখিতভাবে ৩০ দিনের নোটিশ দিয়ে চুক্তি বাতিল করতে পারবেন।

ধারা ৮: গোপনীয়তা

ব্যবসার গোপন তথ্য কোনো পক্ষ তৃতীয় ব্যক্তিকে প্রকাশ করতে পারবেন না।

ধারা ৯: বিবাদ নিষ্পত্তি

কোনো বিরোধ দেখা দিলে প্রথমে আলোচনা ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশ আরবিট্রেশন অ্যাক্ট ২০০১ অনুসারে নিষ্পত্তি করা যাবে।

ধারা ১০: স্বাক্ষর

উভয় পক্ষ স্বেচ্ছায় ও সুস্থ বিবেচনায় এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করছেন।

প্রথম পক্ষের স্বাক্ষর: ____________________
দ্বিতীয় পক্ষের স্বাক্ষর: ____________________

সাক্ষী-১: ____________________
সাক্ষী-২: ____________________


📑 যৌথ ব্যবসার চুক্তিপত্র করার সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

১. মৌখিক নয়, লিখিত চুক্তি করুন
বড় ব্যবসায় কোনো মৌখিক প্রতিশ্রুতির উপর নির্ভর করা বিপজ্জনক হতে পারে।

২. আইনজীবীর পরামর্শ নিন
চুক্তির আইনি ভাষা বা ধারা নিয়ে নিশ্চিত না হলে একজন ব্যবসায়িক আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

৩. চুক্তির প্রতিটি ধারা পড়ে নিন
প্রিন্ট বা ডিজিটাল স্বাক্ষরের আগে প্রতিটি ধারা ভালোভাবে বুঝে নিন।

৪. গোপনীয়তা ও মুনাফা বণ্টনের ধারা অবশ্যই রাখুন
এগুলো ভবিষ্যতে দ্বন্দ্ব এড়াতে সাহায্য করবে।

৫. চুক্তির মেয়াদ ও নবায়নের নিয়ম পরিষ্কার রাখুন
যাতে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কোনো পক্ষ একতরফা সুবিধা নিতে না পারে।

৬. সাক্ষীর উপস্থিতিতে স্বাক্ষর করুন
কমপক্ষে দুইজন নিরপেক্ষ সাক্ষী রাখা উচিত।


💻 অনলাইনে কিভাবে সহজে যৌথ ব্যবসার চুক্তিপত্র তৈরি করবেন

বর্তমানে অনলাইনে চুক্তিপত্র তৈরি করা খুব সহজ।
যেমন, DocsInHand.com এ গিয়ে আপনি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবসায়িক চুক্তিপত্র তৈরি করতে পারেন।
ফরমে শুধুমাত্র নাম, ঠিকানা, ব্যবসার ধরন, মূলধন ও লাভ বণ্টনের তথ্য দিলেই কয়েক সেকেন্ডে আপনি পাবেন একটি প্রিন্টযোগ্য বিজনেস চুক্তিপত্র (PDF বা Word)


📚 আইনি দিক থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

বাংলাদেশের আইনে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের চুক্তি Partnership Act 1932 দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
এই আইনে বলা আছে—

  • দুই বা ততোধিক ব্যক্তি যদি লাভের উদ্দেশ্যে যৌথভাবে কোনো ব্যবসা চালান, তবে সেটি পার্টনারশিপ।
  • চুক্তি লিখিত না হলেও প্রমাণ সাপেক্ষে কার্যকর হতে পারে, তবে লিখিত চুক্তি সবচেয়ে নিরাপদ।
  • কোনো অংশীদার চুক্তি ভঙ্গ করলে অন্য পক্ষ আদালতে মামলা করতে পারেন।
  • ব্যবসার দেনা-পাওনার দায় উভয় পক্ষের ওপর যৌথভাবে বর্তায়, যদি না অন্যভাবে নির্ধারিত থাকে।

🏢 কোন ধরণের ব্যবসায় এই চুক্তি প্রয়োজন?

  • ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট ব্যবসা
  • কনস্ট্রাকশন ও ডেভেলপমেন্ট ফার্ম
  • ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি
  • সফটওয়্যার বা আইটি কোম্পানি
  • দোকান বা শোরুম পার্টনারশিপ
  • কৃষি বা উৎপাদন ভিত্তিক ব্যবসা

🧠 উপসংহার

ব্যবসায়িক চুক্তিপত্র শুধুমাত্র একটি কাগজ নয়, এটি হলো দুইজন ব্যবসায়ির পারস্পরিক আস্থা, দায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কের আইনি রূপ।
একটি সঠিকভাবে তৈরি করা চুক্তিপত্র ভবিষ্যতের জটিলতা, মামলা-মোকদ্দমা ও আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।

তাই আপনি ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বে যাওয়ার আগে একবার সময় নিয়ে সঠিকভাবে একটি বিজনেস চুক্তিপত্র তৈরি করুন—এটি আপনার ব্যবসার নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় নিশ্চয়তা।


🖊️ উৎস:
DocsInHand.com™

🖨️ ডকুমেন্ট প্রিন্টিং সল্যুশন:
showkatbd.com |

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
Scroll to Top