📣 এই জায়গায় আপনার বিজ্ঞাপন দিন — মূল্য তালিকা দেখুন

সব ধরনের সমস্যার জন্য পূর্ণাঙ্গ রুকইয়াহ শরইয়া

পড়তে ২৫ মিনিট
সব ধরনের সমস্যার জন্য পূর্ণাঙ্গ রুকইয়াহ শরইয়া
কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর আলোকে সহজ ভাষায় একটি আমলি গাইড
📘 পৃষ্ঠা ১ / মোট ২২
📖 সূচিপত্র
🌱
অধ্যায় ১ · ১/১
ভূমিকা
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি রোগ দেন এবং তিনিই আরোগ্য দেন। দরূদ ও সালাম রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি।
জীবনে আমরা নানা সমস্যায় পড়ি: অসুস্থতা, দুশ্চিন্তা, ভয়, অনিদ্রা, বদনজর, পারিবারিক অশান্তি, রিযিকের সংকট। মুমিন এসব ক্ষেত্রে প্রথমে আল্লাহর দিকে ফেরে, সাথে বৈধ উপায়ও গ্রহণ করে। রুকইয়াহ হলো সেই বৈধ উপায়গুলোর একটি, যা কুরআন ও রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শেখানো দুআর মাধ্যমে করা হয়।

এই বইয়ের লক্ষ্য তিনটি:

  1. রুকইয়াহ সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়া।
  2. শিরক, কুসংস্কার ও ভণ্ড চিকিৎসকদের থেকে বাঁচার পথ দেখানো।
  3. যেকোনো মানুষ, এমনকি যিনি আরবি ভালো জানেন না, যেন নিজে নিজে আমল করতে পারেন।
গুরুত্বপূর্ণ কথা: রুকইয়াহ চিকিৎসার বিকল্প নয়, পরিপূরক। শারীরিক বা মানসিক সমস্যা হলে অবশ্যই যোগ্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন। রুকইয়াহ তার সাথে চলবে।
📘
অধ্যায় ২ · ১/১
প্রথম অধ্যায়: রুকইয়াহ কী?
রুকইয়াহ (الرقية) অর্থ ঝাড়ফুঁক। শরীয়তের পরিভাষায় কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম ও সিফাত এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে প্রমাণিত দুআ পাঠ করে নিজের বা অন্যের জন্য আল্লাহর কাছে আরোগ্য ও নিরাপত্তা চাওয়া।
রুকইয়াহ শরইয়াহ মানে এমন রুকইয়াহ, যা শরীয়তের নিয়ম মেনে করা হয়। এর বিপরীতে আছে শিরকি বা বিদআতি ঝাড়ফুঁক, যা সম্পূর্ণ বর্জনীয়।
রুকইয়াহর দলিল
আল্লাহ তাআলা বলেন, কুরআনে আছে এমন কিছু, যা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত (সূরা ইসরা ১৭:৮২)।
সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী রা.-এর ঘটনা সহীহ বুখারী ও মুসলিমে আছে। একটি সফরে এক গোত্রের নেতাকে বিচ্ছু কামড় দিলে এক সাহাবী সূরা ফাতিহা পড়ে ফুঁ দেন, ফলে তিনি সুস্থ হয়ে যান। পরে রাসূলুল্লাহ ﷺ বিষয়টি শুনে বলেন, “তুমি কীভাবে জানলে যে এটি রুকইয়াহ?” এবং এটিকে অনুমোদন করেন।
অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, “তোমাদের ঝাড়ফুঁক আমার কাছে পেশ করো। যতক্ষণ তাতে শিরক না থাকে, ততক্ষণ কোনো সমস্যা নেই।” (সহীহ মুসলিম)
✨
অধ্যায় ৩ · ১/১
দ্বিতীয় অধ্যায়: রুকইয়াহ শরইয়ার শর্ত
আলেমগণ (যেমন ইবনু হাজার আসকালানী রহ.) হাদীসের আলোকে তিনটি শর্ত উল্লেখ করেছেন:
  1. আল্লাহর কালাম, নাম-সিফাত বা প্রমাণিত দুআ দিয়ে হতে হবে। জিন, ফেরেশতা, পীর বা অজানা নাম দিয়ে সাহায্য চাওয়া যাবে না।
  2. ভাষা বোধগম্য হতে হবে। দুর্বোধ্য, অর্থহীন মন্ত্র, সাংকেতিক অক্ষর বা অজানা শব্দ নিষিদ্ধ।
  3. বিশ্বাস রাখতে হবে যে আরোগ্য আল্লাহর পক্ষ থেকেই। রুকইয়াহ নিজে থেকে কাজ করে না, কাজ করান আল্লাহ।
কিছু মৌলিক নীতি
  • রুকইয়াহ একটি দুআ ও ইবাদত, কোনো জাদুকরী ফর্মুলা নয়।
  • ফলাফল আল্লাহর হাতে। দেরি হলে হতাশ হওয়া যাবে না।
  • রুকইয়াহ বিনিময় ছাড়া বা ন্যায্য সম্মানী নিয়ে করা যায় (সহীহ বুখারী), তবে একে ব্যবসা বানিয়ে মানুষকে ঠকানো হারাম।
🌿
অধ্যায় ৪ · ১/১
তৃতীয় অধ্যায়: আকীদার ভিত্তি

১. আল্লাহই একমাত্র আরোগ্যদাতা

ইবরাহীম আ.-এর কথা কুরআনে আছে: “আমি অসুস্থ হলে তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন।” (সূরা শুআরা ২৬:৮০)

২. বদনজর, জাদু ও জিনের প্রভাব বাস্তব, কিন্তু অতিরঞ্জন নয়

কুরআন-হাদীসে বদনজর (আইন), জাদু (সিহর) ও জিনের অস্তিত্ব প্রমাণিত। সূরা ফালাক ও সূরা নাস এ কারণেই নাযিল হয়েছে। তবে সব সমস্যাকে জিন বা জাদুর ফল ভাবা ভুল। অধিকাংশ সমস্যার কারণ স্বাভাবিক: রোগ, মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব, অভ্যাস, পারিবারিক বা আর্থিক পরিস্থিতি। আগে স্বাভাবিক কারণ খুঁজুন, ডাক্তার দেখান।

৩. কেউ জানে না কার ওপর জাদু বা বদনজর হয়েছে

গায়েবের খবর একমাত্র আল্লাহ জানেন। যে ব্যক্তি দাবি করে “আমি দেখে বলে দিতে পারি কে তোমার ওপর জাদু করেছে”, সে মিথ্যাবাদী বা প্রতারক। এমন লোকের কাছে যাওয়া নিষেধ (সহীহ মুসলিম)।

৪. তাওয়াক্কুল ও চেষ্টা একসাথে

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “প্রত্যেক রোগের ওষুধ আছে। রোগের সঠিক ওষুধ পেলে আল্লাহর হুকুমে রোগ ভালো হয়।” (সহীহ মুসলিম) তাই ডাক্তার ও রুকইয়াহ, দুটোই গ্রহণযোগ্য উপায়।
🎯
অধ্যায় ৫ · ১/১
চতুর্থ অধ্যায়: যা থেকে সম্পূর্ণ বেঁচে থাকতে হবে
নিচের কাজগুলো রুকইয়াহর নামে হলেও শরীয়তে নিষিদ্ধ:
  • তাবিজ-কবজ ঝোলানো বা বাঁধা। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “যে তাবিজ ঝুলায়, সে শিরক করল।” (মুসনাদ আহমাদ) যেসব তাবিজে অজানা নাম, নকশা বা সংখ্যা থাকে, সেগুলো নিঃসন্দেহে হারাম।
  • গণক, জ্যোতিষী, হাত দেখা, রাশিফল। এদের কাছে যাওয়া ও বিশ্বাস করা কুফরী পর্যন্ত গড়াতে পারে।
  • জিনের সাহায্য চাওয়া বা জিন হাজির করানো।
  • মাজার, পীর বা কবরের কাছে সমস্যার সমাধান চাওয়া।
  • রোগীকে মারধর, শ্বাসরোধ বা অতিরিক্ত কষ্ট দেওয়া। এটি রুকইয়াহ নয়, জুলুম।
  • একা নারীকে নির্জনে নিয়ে রুকইয়াহ করা। মাহরাম বা বিশ্বস্ত কেউ উপস্থিত থাকতে হবে।
  • অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া তরল, ছাই, মাটি বা বস্তু সেবন করা।
  • “দুনিয়ার সব রোগ ১০০% ভালো করে দেব” ধরনের দাবি এবং অতিরিক্ত অর্থ চাওয়া।
সতর্কসংকেত: যে “রুকইয়াহকারী” অজানা ভাষায় মন্ত্র পড়ে, বস্তু পুঁতে রাখতে বলে, আপনার মা-বাবা বা আত্মীয়কে দোষারোপ করে বা অস্বাভাবিক টাকা দাবি করে, তার থেকে দূরে থাকুন।
💡
অধ্যায় ৬ · ১/১
পঞ্চম অধ্যায়: রুকইয়াহর আগে প্রস্তুতি
রুকইয়াহ অন্তর ও আমলের সাথে সম্পর্কিত। তাই প্রথমে নিজের অবস্থা ঠিক করুন:
  1. তাওবা ও ইসতিগফার। জানা গুনাহ ছেড়ে দিন, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান।
  2. ফরয ইবাদত ঠিক রাখা। বিশেষ করে সময়মতো নামায।
  3. হারাম থেকে দূরে থাকা। গান-বাজনার আসর, অশ্লীলতা, সুদ, হারাম উপার্জন।
  4. ওযু অবস্থায় থাকা (উত্তম, তবে বাধ্যতামূলক নয়)।
  5. নিয়ত ঠিক করা। আল্লাহর কাছে আরোগ্য চাওয়ার নিয়ত।
  6. দৃঢ় বিশ্বাস ও ধৈর্য। দুআ কবুল হওয়ার সময় আল্লাহ ভালো জানেন।
  7. সকাল-সন্ধ্যার যিকির নিয়মিত পড়া।
  8. ঘর থেকে প্রাণীর ছবি/মূর্তি ও হারাম বস্তু সরানো, ঘরে নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ঘরে সূরা বাকারা পড়া হয়, শয়তান সেখান থেকে পালায় (সহীহ মুসলিম)।
🌸
অধ্যায় ৭ · ১/৪
ষষ্ঠ অধ্যায়: রুকইয়াহর মূল সূরা ও আয়াত
নিচের সূরা ও আয়াতগুলো রুকইয়াহর প্রধান অংশ। আরবি পড়তে অসুবিধা হলে একজন জানা মানুষের কাছে শিখে নিন বা তিলাওয়াত শুনে শুনে অনুশীলন করুন। আরবি না পারলে অর্থ বুঝে দুআ আকারে বাংলায়ও আল্লাহর কাছে চাইতে পারেন।

১. সূরা ফাতিহা

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ ﴿١﴾ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿٢﴾ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ ﴿٣﴾ مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ ﴿٤﴾ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ﴿٥﴾ اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ ﴿٦﴾ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ ﴿٧﴾
অর্থ: শুরু করছি পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর। তিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু, বিচার দিনের মালিক। আমরা শুধু আপনারই ইবাদত করি এবং শুধু আপনারই সাহায্য চাই। আমাদের সরল পথ দেখান, তাদের পথ, যাদের আপনি নিয়ামত দিয়েছেন, তাদের পথ নয় যাদের ওপর গজব এসেছে এবং যারা পথভ্রষ্ট।

২. আয়াতুল কুরসী (সূরা বাকারা ২:২৫৫)

اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
🌸
অধ্যায় ৭ · ২/৪
ষষ্ঠ অধ্যায়: রুকইয়াহর মূল সূরা ও আয়াত
অর্থ: আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক। তন্দ্রা ও নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না। আসমান ও জমিনে যা আছে সবই তাঁর। তাঁর অনুমতি ছাড়া কে তাঁর কাছে সুপারিশ করতে পারে? তাদের সামনের ও পেছনের সব তিনি জানেন। তিনি যতটুকু চান, তার বাইরে কেউ তাঁর জ্ঞানের কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না। তাঁর কুরসী আসমান-জমিন পরিব্যাপ্ত। এ দুটির সংরক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। তিনি সর্বোচ্চ, মহান।
ফযীলত: ঘুমানোর সময় পড়লে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন হিফাযতকারী নিযুক্ত থাকে এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান কাছে আসতে পারে না (সহীহ বুখারী)।

৩. সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত (২:২৮৫-২৮৬)

آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ ۚ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّسُلِهِ ۚ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ ﴿٢٨٥﴾ لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ ۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ ۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۚ أَنتَ مَوْلَانَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ ﴿٢٨٦﴾
🌸
অধ্যায় ৭ · ৩/৪
ষষ্ঠ অধ্যায়: রুকইয়াহর মূল সূরা ও আয়াত
ফযীলত: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে রাতে এই দুই আয়াত পড়বে, তার জন্য তা যথেষ্ট হবে (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)। আলেমগণ বলেন, অর্থাৎ অনিষ্ট থেকে রক্ষার জন্য যথেষ্ট।

৪. সূরা ইখলাস

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ﴿١﴾ اللَّهُ الصَّمَدُ ﴿٢﴾ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ﴿٣﴾ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ ﴿٤﴾
অর্থ: বলুন, তিনি আল্লাহ, এক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাঁকে জন্ম দেয়নি। তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।

৫. সূরা ফালাক

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ﴿١﴾ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ﴿٢﴾ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ﴿٣﴾ وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ ﴿٤﴾ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ ﴿٥﴾
অর্থ: বলুন, আমি আশ্রয় চাই ভোরের রবের কাছে, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে, অন্ধকার রাতের অনিষ্ট থেকে যখন তা ছেয়ে যায়, গিঁটে ফুঁ দেওয়া জাদুকারিণীদের অনিষ্ট থেকে এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।

৬. সূরা নাস

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ﴿١﴾ مَلِكِ النَّاسِ ﴿٢﴾ إِلَٰهِ النَّاسِ ﴿٣﴾ مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ ﴿٤﴾ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ ﴿٥﴾ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ ﴿٦﴾
অর্থ: বলুন, আমি আশ্রয় চাই মানুষের রবের কাছে, মানুষের বাদশাহর কাছে, মানুষের ইলাহের কাছে, আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট থেকে, যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়, জিন ও মানুষের মধ্য থেকে।
🌸
অধ্যায় ৭ · ৪/৪
ষষ্ঠ অধ্যায়: রুকইয়াহর মূল সূরা ও আয়াত
ফযীলত: আয়িশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ অসুস্থ হলে এই সূরাগুলো (ইখলাস, ফালাক, নাস) পড়ে নিজের হাতে ফুঁ দিতেন এবং হাত বুলাতেন (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)।

৭. জাদু বিষয়ক আয়াতসমূহ (সংকেত)

আলেমগণ জাদুর প্রভাব সন্দেহ হলে এই আয়াতগুলো পড়তে বলেন, যেখানে মূসা আ.-এর ঘটনায় জাদুকরদের জাদু বাতিল হওয়ার কথা আছে:
  • সূরা আরাফ ৭:১১৭-১২২
  • সূরা ইউনুস ১০:৮১-৮২
  • সূরা ত্বহা ২০:৬৯
মুসহাফ দেখে শুদ্ধভাবে পড়ুন। এই আয়াতগুলোর সাথে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নির্দিষ্ট ফযীলতের হাদীস নেই, বরং এগুলো আলেমদের অভিজ্ঞতা ও আয়াতের বিষয়বস্তু থেকে গৃহীত। তাই এগুলোকে ফরয বা সুনির্দিষ্ট সুন্নত মনে করা যাবে না।
🔥
অধ্যায় ৮ · ১/৪
সপ্তম অধ্যায়: সহীহ হাদীস থেকে প্রমাণিত দুআ
নিচের দুআগুলো সহীহ বা হাসান সনদে বর্ণিত। বাংলা উচ্চারণ সাহায্যের জন্য; সম্ভব হলে আরবি শিখে নিন।

১. সব ধরনের অনিষ্ট থেকে আশ্রয়

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
উচ্চারণ: আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক।
অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই। (সহীহ মুসলিম) নতুন কোনো স্থানে অবতরণ করলে পড়ার দুআ; সকাল-সন্ধ্যায়ও পড়া যায়।

২. সকাল-সন্ধ্যার সুরক্ষা (৩ বার করে)

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াদুররু মা’আসমিহী শাইউন ফিল আরদ্বি ওয়ালা ফিসসামাই, ওয়া হুওয়াস সামীউল আলীম।
অর্থ: আল্লাহর নামে, যাঁর নামের সাথে আসমান-জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (আবু দাউদ, তিরমিযী)

৩. অসুস্থতায় আরোগ্যের দুআ

اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ، أَذْهِبِ الْبَاسَ، اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي، لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রাব্বান নাস, আযহিবিল বা’স, ইশফি আনতাশ শাফী, লা শিফাআ ইল্লা শিফাউক, শিফাআন লা ইউগাদিরু সাকামা।
অর্থ: হে আল্লাহ, মানুষের রব, কষ্ট দূর করে দিন। আরোগ্য দান করুন, আপনিই আরোগ্যদাতা। আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই। এমন আরোগ্য দিন, যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
🔥
অধ্যায় ৮ · ২/৪
সপ্তম অধ্যায়: সহীহ হাদীস থেকে প্রমাণিত দুআ

৪. অসুস্থ ব্যক্তির পাশে বসে (৭ বার)

أَسْأَلُ اللَّهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ أَنْ يَشْفِيَكَ
উচ্চারণ: আসআলুল্লাহাল আযীম, রাব্বাল আরশিল আযীম, আই ইয়াশফিয়াক।
অর্থ: আমি মহান আল্লাহ, মহান আরশের রবের কাছে চাই, তিনি যেন আপনাকে সুস্থ করেন। (আবু দাউদ, তিরমিযী; সহীহ)

৫. শরীরের কোনো স্থানে ব্যথা হলে

ব্যথার স্থানে হাত রেখে প্রথমে ৩ বার “বিসমিল্লাহ” বলুন, তারপর ৭ বার পড়ুন:
أَعُوذُ بِعِزَّةِ اللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ
উচ্চারণ: আউযু বিইজ্জাতিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহী মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহাযিরু।
অর্থ: আমি আল্লাহর ইজ্জত ও কুদরতের আশ্রয় চাই, আমি যে কষ্ট অনুভব করছি ও যার আশঙ্কা করছি, তার অনিষ্ট থেকে। (সহীহ মুসলিম)

৬. শিশুদের জন্য সুরক্ষা

রাসূলুল্লাহ ﷺ হাসান ও হুসাইন রা.-এর জন্য এভাবে আশ্রয় চাইতেন:
أُعِيذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
উচ্চারণ: উঈযুকুমা বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাহ, মিন কুল্লি শাইত্বানিওঁ ওয়া হাম্মাহ, ওয়া মিন কুল্লি আইনিল লাম্মাহ।
অর্থ: আমি তোমাদের আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের আশ্রয়ে দিচ্ছি প্রতিটি শয়তান, ক্ষতিকর প্রাণী এবং প্রতিটি অনিষ্টকারী দৃষ্টি থেকে। (সহীহ বুখারী) একজনের জন্য পড়লে “উঈযুকা” বলুন।

৭. দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে মুক্তি

🔥
অধ্যায় ৮ · ৩/৪
সপ্তম অধ্যায়: সহীহ হাদীস থেকে প্রমাণিত দুআ
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযান, ওয়াল আজযি ওয়াল কাসাল, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবন, ওয়া দ্বালা’ইদ দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজাল।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার আশ্রয় চাই দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের বোঝা ও মানুষের দমন-পীড়ন থেকে। (সহীহ বুখারী)

৮. ঘুমে ভয় পেলে বা দুঃস্বপ্ন দেখলে

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ
উচ্চারণ: আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন গাদাবিহী ওয়া ইকাবিহী, ওয়া শাররি ইবাদিহী, ওয়া মিন হামাযাতিশ শায়াত্বীনি ওয়া আই ইয়াহদুরূন।
অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের আশ্রয় চাই তাঁর ক্রোধ, শাস্তি ও বান্দাদের অনিষ্ট থেকে এবং শয়তানদের কুমন্ত্রণা ও আমার কাছে তাদের উপস্থিতি থেকে। (আবু দাউদ, তিরমিযী; হাসান)
দুঃস্বপ্ন দেখলে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শিক্ষা: বাম দিকে তিনবার হালকা থুথু ফেলুন (মুখ থেকে সামান্য বাতাসসহ), শয়তান ও স্বপ্নের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চান, কাউকে স্বপ্নটি বলবেন না এবং পাশ বদলে শুয়ে পড়ুন। (সহীহ মুসলিম)

৯. ঋণ ও অভাব থেকে মুক্তি

🔥
অধ্যায় ৮ · ৪/৪
সপ্তম অধ্যায়: সহীহ হাদীস থেকে প্রমাণিত দুআ
اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাকফিনী বিহালালিকা আন হারামিক, ওয়া আগনিনী বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনার হালাল দিয়ে আমাকে হারাম থেকে যথেষ্ট করে দিন এবং আপনার অনুগ্রহে আপনি ছাড়া অন্য সবার থেকে অমুখাপেক্ষী করুন। (তিরমিযী; হাসান)
🧭
অধ্যায় ৯ · ১/৩
অষ্টম অধ্যায়: সমস্যাভিত্তিক গাইড
প্রতিটি ক্ষেত্রে আগে ডাক্তার বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন, সাথে নিচের আমল করুন।

ক. বদনজর

বদনজর সত্য (সহীহ মুসলিম)। কারো সৌন্দর্য, সম্পদ বা সাফল্য দেখে ভালো লাগলে “মা-শা-আল্লাহ, তাবারাকাল্লাহ” বলা উচিত। কারো ওপর বদনজর লাগলে:
  • সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, তিন কুল পড়ে ফুঁ দিন।
  • দুআ ৬ ও ১ পড়ুন।
  • শিশুদের জন্য ৬ নম্বর দুআ নিয়মিত পড়ুন।
  • যদি নজর দেওয়া ব্যক্তি নিশ্চিতভাবে জানা থাকে এবং তাকে বিনয়ের সাথে ওযু বা গোসলের পানি দিতে বলা হয়, তবে তা দেওয়া উচিত (সহীহ মুসলিম)।
জানা না থাকলে কাউকে সন্দেহ বা দোষারোপ করা যাবে না।

খ. জাদু বা জিনের প্রভাব সন্দেহ হলে

প্রথমে নিশ্চিত হোন, সব সমস্যা জাদু নয়। যদি মনে হয় পরপর অস্বাভাবিক লক্ষণ আছে:
  • প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা নিয়মিত আযকার পড়ুন (দুআ ২, ১, আয়াতুল কুরসি, তিন কুল)।
  • প্রতিদিন ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসি ও সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়ুন।
  • ঘরে নিয়মিত সূরা বাকারা তিলাওয়াত করুন বা শুনুন।
  • ফরয নামায ও হালাল-হারামে সতর্ক থাকুন; এটাই সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা।
  • প্রয়োজনে বিশ্বস্ত, জ্ঞানী ও আমানতদার আলেমের সাহায্য নিন।

গ. শারীরিক ব্যথা ও অসুস্থতা

  • ডাক্তারের চিকিৎসা চালিয়ে যান।
  • ব্যথার জায়গায় হাত রেখে দুআ ৫ পড়ুন।
  • দুআ ৩ ও ৪ পড়ুন।
  • সূরা ফাতিহা পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে ব্যথার জায়গায় বুলিয়ে নিন।
  • কালোজিরা সম্পর্কে হাদীসে আছে, মৃত্যু ছাড়া সব রোগের উপশম এতে আছে (সহীহ বুখারী)। এটি ওষুধের পরিপূরক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন, বিকল্প হিসেবে নয়।
🧭
অধ্যায় ৯ · ২/৩
অষ্টম অধ্যায়: সমস্যাভিত্তিক গাইড

ঘ. দুশ্চিন্তা, ভয়, মন খারাপ ও অনিদ্রা

  • দুআ ৭ ও ৮ নিয়মিত পড়ুন।
  • সকাল-সন্ধ্যার যিকির কখনো বাদ দেবেন না।
  • নামায আদায় করুন, কুরআন তিলাওয়াত করুন। আল্লাহ বলেন, “জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তর প্রশান্তি লাভ করে।” (সূরা রাদ ১৩:২৮)
  • ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি, তিন কুল পড়ে দুই হাতে ফুঁ দিন এবং মাথা, মুখ ও শরীরের সামনের অংশে বুলান। এটি তিনবার করুন (সহীহ বুখারী)।
  • এগুলো ক্রমাগত চললে বা নিজের ক্ষতি করার চিন্তা আসলে অবশ্যই মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা বিশ্বস্ত কাউকে জানান। ডিপ্রেশন, উদ্বেগ বা প্যানিক ডিসঅর্ডার চিকিৎসাযোগ্য রোগ, ঈমানের দুর্বলতা নয়। চিকিৎসা নেওয়া শরীয়তে বৈধ ও উৎসাহিত।

ঙ. ঘরের অশান্তি ও পারিবারিক সমস্যা

  • ঘরে প্রবেশের সময় সালাম ও বিসমিল্লাহ বলুন, খাওয়ার সময়ও বিসমিল্লাহ বলুন (সহীহ মুসলিম)।
  • নিয়মিত সূরা বাকারা তিলাওয়াত করুন এবং ঘরে কুরআনের পরিবেশ রাখুন।
  • গান-বাজনা, ছবি, মূর্তি ও হারাম বিষয় ঘর থেকে সরান।
  • পরস্পরের সাথে সদাচরণ করুন, দুআ করুন ও প্রয়োজনে বিশ্বস্ত বড়দের সাহায্য নিন।

চ. রিযিক, ব্যবসা ও ঋণ

  • দুআ ৯ ও দুআ ৭ পড়ুন।
  • ইস্তিগফার বাড়ান। আল্লাহ বলেন, ইস্তিগফারের মাধ্যমে তিনি বৃষ্টি, সম্পদ ও সন্তান বৃদ্ধি করেন (সূরা নূহ ৭১:১০-১২)।
  • হালাল পথে উপার্জন করুন, যাকাত-সদকা আদায় করুন, সুদ ও প্রতারণা বর্জন করুন।
  • ব্যবসায়ে পরিকল্পনা ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শও নিন।
🧭
অধ্যায় ৯ · ৩/৩
অষ্টম অধ্যায়: সমস্যাভিত্তিক গাইড

ছ. শিশুদের সমস্যা (ভয়, কান্না, ঘুম না আসা)

  • দুআ ৬ পড়ে শিশুর গায়ে ফুঁ দিন, ঘুমানোর আগে নিয়মিত তিন কুল ও আয়াতুল কুরসি পড়ুন।
  • কঠিন কিছু মনে হলে প্রথমে শিশু বিশেষজ্ঞকে দেখান।
🌱
অধ্যায় ১০ · ১/১
নবম অধ্যায়: রুকইয়াহ করার পদ্ধতি

নিজের জন্য

  1. ওযু করে (সম্ভব হলে) কিবলামুখী বসুন, মনোযোগ দিয়ে আল্লাহর কাছে আরোগ্য চান।
  2. বিসমিল্লাহ ও আউযুবিল্লাহ পড়ুন।
  3. সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত, ইখলাস, ফালাক, নাস পড়ুন, প্রতিটি অন্তত তিনবার।
  4. হাতে হালকা ফুঁ দিয়ে ব্যথার জায়গায় বা পুরো শরীরে (মাথা থেকে শুরু করে) হাত বুলান।
  5. প্রয়োজনে সমস্যা অনুযায়ী দুআগুলো যোগ করুন।
  6. আল্লাহর উপর ভরসা রেখে ধৈর্যের সাথে প্রতিদিন চালিয়ে যান।

অন্যের জন্য

  • রোগীর কাছে বসে একই আয়াত ও দুআ পড়ুন এবং হালকা ফুঁ দিয়ে হাত বুলান বা মাথার ওপর হাত রাখুন।
  • রোগীর গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা করুন।
  • নারী রোগীর ক্ষেত্রে মাহরাম বা বিশ্বস্ত নারী পাশে থাকবেন।
  • পারিশ্রমিক নিলে আগে থেকে ঠিক করুন, কিন্তু একে প্রতারণার ব্যবসা বানাবেন না।

রুকইয়ার পানি ও তেল

পানিতে কুরআন তিলাওয়াত করে ফুঁ দিয়ে পান করা বা গায়ে লাগানো আলেমদের অনেকের মতে জায়েয, কারণ এতে কুরআনের বরকত চাওয়া হয়। তবে এটিকে আবশ্যক বা “জাদুর ওষুধ” ভাবা ঠিক নয়। আয়াত পড়াই মূল, পানি সহায়ক মাত্র।
📘
অধ্যায় ১১ · ১/১
দশম অধ্যায়: সাধারণ ভুল ধারণা
  • “রুকইয়াহ করলে ডাক্তারের দরকার নেই”। ভুল। দুটোই বৈধ উপায়।
  • “সব অসুখ জিন বা জাদুর কারণে”। ভুল। বেশিরভাগ সমস্যা সাধারণ।
  • “রুকইয়াহ কাজ না করলে আমার ঈমান দুর্বল”। ভুল। আল্লাহ পরীক্ষা নেন, উত্তর দেরিতেও আসে।
  • “কোনো বিশেষ ব্যক্তি ছাড়া রুকইয়াহ হয় না”। ভুল। সাধারণ মুসলিমও করতে পারেন।
  • “রুকইয়াহর জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যা বা সময় বাঁধা”। সহীহ দলিল ছাড়া সংখ্যা, সময় বা নির্দিষ্ট ফর্মুলা বাঁধা ঠিক নয়।
  • “তাবিজ তো কুরআনের আয়াত লেখা, দোষ কী”। সহীহ হাদীসে তাবিজ ঝুলানোকে শিরকের পথ বলা হয়েছে, তাই এড়িয়ে চলুন।
✨
অধ্যায় ১২ · ১/১
একাদশ অধ্যায়: দৈনিক রুটিন (সংক্ষেপে)
সকালে (ফজরের পর): আয়াতুল কুরসি ১ বার, ইখলাস-ফালাক-নাস ৩ বার, দুআ ২ (৩ বার), দুআ ১ (৩ বার)।
সন্ধ্যায় (আসরের পর): উপরের আমলগুলোই।
ঘুমানোর আগে: আয়াতুল কুরসি, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত, তিন কুল পড়ে দুই হাতে ফুঁ দিয়ে শরীরে বুলান (৩ বার)।
প্রয়োজনমতো: সমস্যা অনুযায়ী অষ্টম অধ্যায়ের দুআ।
সব সময়: ফরয নামায, তাওবা, সৎ উপার্জন, বেশি বেশি ইস্তিগফার ও দরূদ।
🌿
অধ্যায় ১৩ · ১/১
উপসংহার
রুকইয়াহ আল্লাহর সাথে সম্পর্ক মজবুত করার একটি সুন্দর মাধ্যম। এতে ভয় নয়, ভরসা থাকবে। আতঙ্ক নয়, আশা থাকবে। শিরক ও ভণ্ডামি থেকে দূরে থাকবেন, চিকিৎসা ও দুআ একসাথে রাখবেন, ধৈর্য ধরবেন এবং বিশ্বাস রাখবেন যে আরোগ্য আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।
দুআ: হে আল্লাহ, আপনি আরোগ্যদাতা। আমাদের সবাইকে শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক সুস্থতা দান করুন, সব অনিষ্ট থেকে হিফাযত করুন এবং এই বইয়ের পাঠক ও লেখক সবাইকে ক্ষমা করুন। আমীন।
🎯
অধ্যায় ১৪ · ১/১
গুরুত্বপূর্ণ নোট
  • আরবি আয়াত ও দুআ প্রকাশের আগে অবশ্যই একজন যোগ্য আলেম বা মুফতি দিয়ে যাচাই করিয়ে নিন (আরবি বানান, হাদীসের মান ও রেফারেন্স)।
  • এই লেখাটি সাধারণ দিকনির্দেশনা, কোনো চিকিৎসা-পরামর্শ নয়।
👁️ এই পোস্টটি দেখা হয়েছে 30 বার
শেয়ার করুন:FacebookWhatsAppEmailLinkedInRedditX
☆☆☆☆☆ 0 / ৫ (0 টি রিভিউ)
★★★★★

এখনো কোনো রিভিউ নেই — প্রথম রিভিউটি আপনিই দিন!

DocsInHand TM

ওয়েব ও ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপার, লেখক।

মন্তব্য করুন

স্পনসর্ড পোস্ট