কুরবানীর বিষয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ
অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কোরবানী করুন। (১০৮ঃ২)
لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنكُمْ ۚ
এগুলোর (কুরবানীর পশুর) গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু পৌঁছে তাঁর কাছে তোমাদের মনের তাকওয়া (২২ঃ৩৭)
১। কার উপর কুরবানী ওয়াজিব?
মাসিক আয় ব্যয়ের সাথে কুরবানী ওয়াজিব হবার সম্পর্ক নেই। কুরবানীর সম্পর্ক হল, কুরবানীর দিনসমূহ তথা জিলহজ্জ মাসের দশ, এগারো ও বারো তারিখে কোন ব্যক্তি যদি নিত্য প্রয়োজনীয় খরচ ব্যতীত অতিরিক্ত সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা এর সমমূল্যের (প্রায় ১০ লাখ টাকা বর্তমান হিসেবে) নগদ অর্থের মালিক হয়, তাহলে তার উপর কুরবানী করা আবশ্যক।
সুতরাং কুরবানীর দিনসমূহে যদি কোন ব্যক্তি আবশ্যকীয় প্রয়োজন অতিরিক্ত এত টাকা অথবা স্বর্ণের মালিক হয়ে থাকে, কিংবা টাকা ও স্বর্ণ মিলিয়েও যদি এই পরিমাণ অর্থের মালিক হন, তাহলে তার উপর কুরবানী করা আবশ্যক।
সে প্রতি মাসে কত টাকা কামাই করল আর কত টাকা জমা করল, ইত্যাদি ধর্তব্য নয়।
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
مَنْ وَجَد سَعَةً فلم يُضَحِّ فلا يَقْرَبَنَّ مُصَلاَّنا
أخرجه ابن ماجه (2123) واللفظ له، وأحمد (8273)
যার সামর্থ্য আছে কিন্তু কুরবানী করে না সে যেন (ঈদের দিনে) আমাদের ঈদগাহে না আসে। (ইবনে মাজাহ, ২১২৩, মুসনাদ আহমদ, ৮২৭৩)
উল্লেখ্য, কুরবানী যার উপর ওয়াজিব তিনি কুরবানী না করে সকল টাকা গরিবকে দান করে দিলে হবে না। কুরবানী করতে হবে। হ্যাঁ গরু না দেন খাসি দিলেন। কিন্তু কুরবানী করতে হবে। ছাড়াছাড়ি ও বাড়াবাড়ি দুটোর মাঝে থাকি উত্তম।
তবে এই বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে গরিবকে সাহায্য করা খুব জরুরী। মানুষ খুব কষ্টে আছে। আত্মীয় স্বজন পাড়া প্রতিবেশি গরিব মিসকিনের খবর রাখি আমরা।
২। চুল নখ না কাটা কুরবানীর আগে
قال رسول الله ﷺ: إذا رأيتم هلال ذي الحجة وأراد أحدكم أن يضحي فليمسك عن شعره وأظافره
প্রিয়নবী ﷺ বলেন, যখন তোমরা জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখে ফেলবে আর কেউ কুরবানী করার ইচ্ছা কর সে যেন চুল ও নখ না কাটে।
وفي رواية أخرى: «فلا يمس من شعره وبشره شيئًا»
অপর রেওয়ায়াতে এসেছে চুল ও ত্বকের কোন কিছুই যেন না কাটে। যেমন গোফ কাটা, দাড়ি সাইজ করা, অবাঞ্চিত লোম কাটা ইত্যাদিও যেন না করে।
অপর এক বর্ণনায় এসেছে, যে কুরবানী করবে না সেও যেন জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখার পর চুল ও নখ না কাটে কুরবানীর দিন পর্যন্ত, তার জন্যও কুরবানীর সওয়াব থাকবে। তবে জিলহজ্জ শুরুর পর ৪০ দিন পাড় হয়ে গেলে নখ কাটতে পারে, অবাঞ্চিত লোম কাটতে পারে বলে কেউ কেউ মত দিয়েছেন।
৩। অপরের পক্ষ থেকে কুরবানী করা যাবে? যিনি দুনিয়াতে নাই তার পক্ষ থেকে কুরবানী করা যাবে?
নিজের ফরজ হজ্জ আদায়ের পর যেমন অন্যের জন্য হজ্জ আদায় করা যায়। তেমনি নিজের ওয়াজিব কুরবানী আদায়ের পর অন্যের পক্ষ থেকে নফল কুরবানী দেয়া যায়।
কিন্তু নিজের ওয়াজিবটি আগে আদায় করতে হবে।
তিরমিজির ১৪৯৫ নং হাদিসে এসেছে মাওলা আলি রা. বলেন, আমাকে হুজুর রাসূলুল্লাহ ﷺ উনার পক্ষ থেকে সারাজীবন কুরবানী করতে আদেশ দিয়েছেন।
1495 عن علي أنه كان يضحي بكبشين أحدهما عن النبي صلى الله عليه وسلم والآخر عن نفسه فقيل له فقال أمرني به يعني النبي صلى الله عليه وسلم فلا أدعه أبدا
প্রিয়নবী ﷺ সারাজীবন উম্মতের পক্ষ থেকে একটি কুরবানী দিতেন। উম্মতের যারা গত হয়ে গেছে তারা ও আগত সবাই সেখানে শামিল থাকে।
হযরত জাবির বিন আব্দুল্লাহ রা: থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল ﷺ যখন কুরবানীর দিন দু’টি শিংওয়ালা মোটাতাজা বকরী জবাই করতেন। যখন তিনি কুরবানী করার জন্য শুয়ানো হতো, তখন তিনি পড়তেন “ইন্নি ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লালিল্লাজি……..ওয়াআনা মিনাল মুছলিমীন। আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়ালাকা ওয়া আন মুহাম্মাদিন [মুহাম্মদ ﷺর পক্ষ থেকে] ওয়া উম্মাতিহী [তার উম্মতের পক্ষ থেকে] বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার। তারপর কুরবানী করতেন। -আবু দাউদ, হাদীস নং-২৭৯৫
৪। সাত ভাগে কুরবানী জায়েজ কীনা!
মুসলিম শরিফের হাদিস, হজরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রা. বলছেন, আমরা হুজুর রাসূলুল্লাহ ﷺর সাথে হুদাইবিয়ার বছরে সাত জন মিলে উট ও গরু কুরবানী করলাম।
অপর হাদিসে এসেছে অনুরুপ কাজ বিদায় হজ্জের বছরও সাহাবায়ে কেরাম করেছেন।
৫। মান্নতের কুরবানির গোশত নিজে এবং ধনী ব্যক্তিকে কি খাওয়াতে পারবে?
কুরবানীর জন্য মান্নতের দু’টি সুরত। যথা-
১) মান্নতটি করা দ্বারা উদ্দেশ্য ছিল, স্বাভাবিক কুরবানী। অর্থাৎ তার উপর আবশ্যকীয় কুরবানিটি এ পশু দ্বারা আদায় করা। কুরবানী করে সেটির গোস্ত গরীবদের মাঝে বন্টন করে দেবার উদ্দেশ্য ছিল না।
২) মান্নত দ্বারা হাকীকী মান্নত উদ্দেশ্য ছিল। তথা কুরবানী করে এর গোস্ত গরীবদের মাঝে বন্টন করে দেয়া মাকসাদ ছিল।
যদি কুরবানীর মান্নত দ্বারা প্রথম সুরতটি উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, অর্থাৎ স্বাভাবিক কুরবানী করার উদ্দেশ্য থাকে, তাহলে উক্ত কুরবানীর গোস্ত মান্নতকারী কুরবানীদাতা খেতে পারবে। কারণ তা সাধারণ কুরবানীর মতই। শুধু এখানে নিজের উপর কোন ধরণের পশু কুরবানী করবে তা নির্দিষ্ট করে থাকে। বা কুরবানী করার বিষয়টি নিশ্চিত করে থাকে।
আর যদি দ্বিতীয় সুরত হয়, অর্থাৎ হাকীকী মান্নত উদ্দেশ্য নেয়। মানে হল, কুরবানী করে এর গোস্ত গরীবদের মাঝে বন্টন করে দেয়ার নিয়ত করে থাকে, তাহলে উপরোক্ত মান্নতের কুরবানীর গোস্ত মান্নতকারী খেতে পারবে না। বরং পুরো গোস্তই গরীবদের মাঝে দান করে দিতে হবে।
৬। কুরবানির পশুর কোন কোন অংগ খাওয়া নিষিদ্ধ?
হালাল পশুর ৭টি অঙ্গ হারাম। যথা-
১- প্রবাহিত রক্ত।
২- নর প্রাণীর পুং লিঙ্গ।
৩- অন্ডকোষ।
৪- মাদী প্রাণীর স্ত্রী লিঙ্গ।
৫- মাংসগ্রন্থি।
৬- মুত্রথলি।
৭- পিত্ত।
এছাড়া বাকি সবই খাওয়া জায়েজ।
সুতরাং রগজাতীয় যাবতীয় বস্তুই খাওয়া জায়েজ নয়। সেই হিসেবে মেরুদন্ডের ভিতরগত রগও খাওয়া জায়েজ হবে না। মাকরূহ হবে।
নাড়িভুড়ি এগুলো খাওয়া মাকরুহ। কেউ কেউ বলেছেন মাকরুহে তাহরিমি তাই এগুলো এড়িয়ে যাওয়াই উত্তম। এমনিতেও এগুলো নাপাক জিনিসের সাথে লেগে থাকে।
৭। কুরবানীর পশুতে আকিকার জন্য ভাগ রাখা যাবে?
হ্যাঁ, পারবেন। কোন সমস্যা নেই। কুরবানীও আল্লাহর জন্য করা হয়। আকিকাও আল্লাহর জন্য করা হয়। হাদীসের মাঝে কুরবানী এবং আকীকা উভয়ের জন্যই “নুসুক” শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে।
سُئِلَ رسولُ اللَّهِ صلَّى اللَّهُ عليهِ وسلَّمَ عنِ العَقيقةِ ؟ فقالَ : إنَّ اللَّهَ لا يُحبُّ العُقوقَ وَكَأنَّهُ كرِهَ الاسمَ قالوا : يا رَسولَ اللَّهِ إنَّما نَسألُكَ عن أحدِنا يولَدُ لَهُ ؟ قالَ : مَن أحبَّ منكُم أن يَنسُكَ عن ولدِهِ فليفعَلْ ،
أخرجه أبو داود (2842) باختلاف يسير، والنسائي (4212) مختصراً، وأحمد (6713) واللفظ له.
হুজুর রাসুল ﷺকে সাহাবায়ে কেরাম বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মাঝে কারো সন্তান হলে, তার পক্ষ থেকে কোন কিছু নুছুক তথা জবাই করবো কি? প্রিয় নবীজী ﷺ জবাব দিলেন, তোমাদের মাঝে যে ব্যক্তি তার সন্তানের পক্ষ থেকে নুসুক তথা জবাই করতে চায়, সে যেন তা করে, ছেলের পক্ষ থেকে দু’টি মোটাতাজা বকরী, আর মেয়ের পক্ষ থেকে একটি বকরী।
(দ্র. আলমুসান্নাফ, আব্দুর রাযযাক : ৭৯৬১; আলমুসনাদ, আহমদ : ৬৭১৩, ৬৭২২; আসসুনান, আবু দাউদ (আকীকা অধ্যায়)২৮৪২; আস-সুনান, নাসায়ী : ৭/১৬২, ১৬৩; আলমুসান্নাফ, ইবনে আবী শাইবা ১২/৩২৪ হাদীস : ২৪৭২৭; আলমুসতাদরাক,হাকিম, ৫/৩৩৭, হাদীস : ৭৬৬৬)
কুরবানী ও আকিকাতে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইরাকাতুদ দাম বা রক্তপ্রবাহ উদ্দেশ্য যেহেতু উভয় বিষয়েই সেহেতু একসাথে করা জায়েজ।
নুসুক তথা কুরবানী এক উট, গরুতে সাতজন শরীক হতে পারে। সেই হিসেবে এক পশুতে আকিকা ও কুরবানী একই সাথে শরীক করা যাবে। যেহেতু উভয়টিই নুসুক। তবে আকিকার চাইতে কুরবানীর ভাগ বেশি হতে হবে। ৪ ভাগ কুরবানীর জন্য রেখে সর্বোচ্চ ৩ ভাগ আকিকার জন্য রাখা যায়।
যারা এটিকে নাজায়েজ বলেন, তাদের উচিত এক পশুতে কুরবানী ও আকিকা একত্র করা যাবে না মর্মে কোন হাদীস পেশ করতে।
একসাথে দেয় বলতে কী বুঝাচ্ছেন? তা অস্পষ্ট। যদি এক অংশে কুরবানী ও আকীকার নিয়ত করে, তাহলে কুরবানী হবে না। বকরী, ভেড়া ও দুম্বায় একটি নিয়ত করতে হবে। আর বড় পশু কুরবানী দিলে আলাদা অংশে কুরবানী ও আকীকার নিয়ত করলে কুরবানী ও আকীকা সহীহ হবে।
যদি বড় পশুতে আলাদা অংশ হিসেবে কুরবানী ও আকীকার জন্য অংশ নেয়। তাহলে আকীকা ও কুরবানীর গোস্তের একই বিধান।
কুরবানীর গোস্ত যেমন তিন ভাগ করে এক ভাগ, নিজের জন্য রাখা, এক ভাগ গরীবকে দেয়া, একভাগ আত্মীয়দের মাঝে বন্টন করা উত্তম। আবার ইচ্ছে করলে পুরোটাই নিজের জন্য রাখা জায়েজ আছে। তেমনি আকীকার গোস্তেরও একই বিধান।
তিন ভাগ করে নিজের, আত্মীয় ও গরীবদের দেয়া। বা নিজেই পুরোটা রেখে দেয়া। সবই জায়েজ।
আকীকার গোস্ত বন্টন নিয়ে আলাদা চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। এক সাথেই রাখা যাবে।
৮। খাসী ও বলদ গরু দ্বারা কুরবানী জায়েজ কীনা!
عَنْ عَائِشَةَ، أَوْ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ «إِذَا أَرَادَ أَنْ يُضَحِّيَ، اشْتَرَى كَبْشَيْنِ عَظِيمَيْنِ، سَمِينَيْنِ، أَقْرَنَيْنِ، أَمْلَحَيْنِ مَوْجُوءَيْنِ، فَذَبَحَ أَحَدَهُمَا عَنْ أُمَّتِهِ، لِمَنْ شَهِدَ لِلَّهِ، بِالتَّوْحِيدِ، وَشَهِدَ لَهُ بِالْبَلَاغِ، وَذَبَحَ الْآخَرَ عَنْ مُحَمَّدٍ، وَعَنْ آلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ»
হজরত আয়শা রা: ও আবূ হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত। হুজুর রাসূল ﷺ কুরবানীর ইচ্ছা করলে দু’টি মোটাতাজা, মাংশল, শিংযুক্ত, ধুসর বর্ণের ও খাসীকৃত মেষ ক্রয় করতেন। অতঃপর এর একটি আপন উম্মাতের যারা আল্লাহর তাওহীদের সাক্ষী দেয় এবং তাঁর নবুওয়াত প্রচারের সাক্ষী দেয়, তাদের পক্ষ থেকে এবং অপরটি মুহাম্মদ ﷺ ও তাঁর পরিবার বর্গের পক্ষ থেকে কুরবানী করতেন। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৩১২২]
কাজেই খাসি ও বলদ গরু দিয়ে কুরবানী করা জায়েজ ও সুন্নাহ। আরো হাদিস আছে এ বিষয়ে আলোচনা দীর্ঘ না হয় সেজন্য একখানা মাত্র উল্লেখ করলাম৷
৯। শরীক কুরবানী দেবার ক্ষেত্রে মৌলিকভাবে দু’টি বিষয় লক্ষ্যণীয়। তাহলো:
ক। শরীক ব্যক্তির সম্পদ হালাল হতে হবে।
খ। শুধু গোস্ত খাওয়ার নিয়ত নয়, বরং আল্লাহর জন্য কুরবানী করার বিশুদ্ধ নিয়ত থাকতে হবে।
গ। কুফর ও শিরকমুক্ত আকীদা সম্পন্ন হতে হবে। যেমন শিয়া রাফেজি, কাদিয়ানী, শিরকি আকীদাপন্থী না হতে হবে।
উপরোক্ত তিনটি বিষয়ের কোন একটির দোষে যদি দোষী ব্যক্তির সাথে শরীকে কুরবানী দিলে শরীক কারো কুরবানীই বিশুদ্ধ হবে না। তাই শরীক নেবার ক্ষেত্রে খুবই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। আদায় হয়ত হয়ে যাবে তবে অপরিপূর্ণ থেকে যাবে।
১০। যদি কথার কথা ৫ জন মিলে একটা গরু কুরবানি দেয় তাহলে বাকি দুই শরিক কার নামে দিবে এবং কি ভাবে বণ্টন করবে?
প্রিয়নবী ﷺ কিংবা আহলে বায়তে আতহার অথবা খুলাফায়ে রাশিদিনের কারো নামে দিয়ে দিতে পারেন। অথবা যদি সবাই ওলি আওলিয়ার ভক্ত হন তবে তাঁদের নামেও দিতে পারেন। নামে মানে তাদের পক্ষ থেকে। নামে মানে আসলেই তাদের নামে উদ্দেশ্যে নয়।
সেই ৫ জনের পক্ষ থেকে গরু কুরবানীর গোশত বন্টন কিভাবে করবে? সমান ৫ ভাগে ভাগ করে নিয়ে আবার প্রত্যেকেই নিজের অংশ থেকে ১ ভাগ গরিবকে, ১ ভাগ আত্মীয় বন্ধু পাড়া প্রতিবেশি ও ১ ভাগ নিজে রাখতে পারেন।
১১। অন্য কারো পক্ষ থেকে কুরবানী
নিজের কুরবানী নিজে করাই উত্তম। বলবে যে আমার অথবা আমার পরিবারের পক্ষ থেকে এই কুরবানী আল্লাহ পাক আপনি কবুল করুন।
আর যদি অন্য কেউ জবাই করে দেয়, সে ক্ষেত্রে এখানে যেহেতু যিনি জবাই করছেন তিনি সাতজন ব্যক্তির প্রতিনিধি হয়ে কুরবানী করছেন। তাই কুরবানী করার সময় তাদের পক্ষ থেকে তিনি কুরবানী করছেন একথাটি পরিস্কার করার জন্য নামগুলো বলা হয়। এতে দোষের কিছু নেই।
কুরবানীটি কাদের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে তাদের নাম পরিস্কার করাই এর মাকসাদ থাকে।
কিছু হাদীসের মাঝে দুআ পড়ে কুরবানী করলে আগে কার পক্ষ থেকে কুরবানী করা হচ্ছে তার নাম বলে তারপর বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে জবাই করার সমর্থন পাওয়া যায়।
যেমন হাদীসে এসেছঃ
হযরত জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল ﷺ যখন কুরবানীর দিন দু’টি শিংওয়ালা মোটাতাজা বকরী জবাই করতেন। যখন তিনি কুরবানী করার জন্য শুয়ানো হতো, তখন তিনি পড়তেন “ইন্নি ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লালিল্লাজি……..ওয়াআনা মিনাল মুছলিমীন। আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়ালাকা ওয়া আন মুহাম্মাদিন [মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে] ওয়া উম্মাতিহী [তার উম্মতের পক্ষ থেকে] বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার। তারপর কুরবানী করতেন। [আবু দাউদ, হাদীস নং-২৭৯৫]
১২। কুরবানী হবে একমাত্র আল্লাহ পাকের নামে।
অন্য কারো নামে কুরবানী হারাম। কিন্তু যাদের পক্ষ থেকে কুরবানী হচ্ছে তাদের নাম জবাইকারী এর আগে পড়তে পারেন। হে আল্লাহ এদের এদের পক্ষ থেকে এই কুরবানী আপনি কবুল করুন। তারপর বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে জবাই করবে৷ জবাই করাকালীন একমাত্র আল্লাহ পাকের নাম মুবারাক উচ্চারণ হবে। অন্য কারো নামই নয়।
কুরবানী করার আগে যত ইচ্ছা দোয়া, তাসবিহ তাহলিল ও দরুদ সালাম পাঠ করুন, ইস্তিগফার পাঠ করুন, যেন কুরবানী কবুল হয় সেই উদ্দেশ্যে। কিন্তু জবাই করার সময় একমাত্র বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলতে হবে। কোন সৃষ্টির নামই জবাইকালীন সময়ে নেয়া যাবে না, তিনি আল্লাহ পাকের যত প্রিয় বান্দাই হোন না কেন।
আল্লাহ পাক ও তাঁর হাবিব ﷺ অধিক অবগত৷ অনিচ্ছাকৃ অজ্ঞতাজনিত ভুলের জন্য আল্লাহ পাকের কাছে ক্ষমা চাই।
এ লেখার অনেক ফতোয়া আহলে হক মিডিয়া ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত এবং সম্পাদনা করেছেন সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া আজহারী