📣 এই জায়গায় আপনার বিজ্ঞাপন দিন — মূল্য তালিকা দেখুন
স্পনসর্ড

আজিজ বিন নুরের প্রেমের কবিতা

showkatbd Somikkhon · আজিজ বিন নুর · আগস্ট 17, 2026

কতটা পুড়েছো এ অভ্যন্তর

কতোটা পুড়েছো আমার এ অভ্যন্তর
সে হিসাব মিলাতে বসো না কোনদিন
কিছু ছাই রাখে পোড়া ইট ও পাথর
আমার ভেতর আজ আমিই বিলীন।

বন্দী রাখি নি বিষাদ উড়িয়েছি নীলে
সম্ভাবনার শালীন সাধনাও শেষ
আমাদের প্রেম নিয়ে গিয়েছে যে চিলে
আমি শুধু দেখেছি সে ডানার সুবেশ।

গভীর বেদনা মোড়া আগুনের ছাই
ধূসর অনল তাতে,তুমি আমি নাই।

অঝোর মেয়েটি

কথা বলা রোদ আজ হয়েছে নিবিড়
বাতাসে জড়িয়ে হাত, তোমার মতন এক নীড়
আমাকে করেছে অগোছালো ;
আমাদের প্রেম বুঝি জাদুবিদ্যা জানে–
গোপন অশ্রুের মতো বাতাসের এলোমেলো কানে
ঢেলে গেছে–ভালবাসা, দৈন্যতার ভালো।

ছায়া পুকুরের টলোমলো নীল চোখ রেখেছে আকাশ
তার মমতার সুগভীর কালো জলে–
থমথমে বেদনার ঢেউ তবু করেছে স্মৃতির চাষ–বোধের কাজলে ;
অঝোর মেয়েটি যেন জলের গভীরে তার শাদা হাত মেলে
ডুবে গেছে– সুতরাং
জলছবি রোদ্রের আলোয় গেছে গলে।

এখানে নির্জনা থাকে

নির্জনা ধরেছে হাত, হাত থেকে সে আরো বিদগ্ধ আগুন–
মাতামুহুরি নদী যেন রয়েছে চোখে–সাদুম সাগরের নুন।
নির্জনা বয়েছে চোখ, হয়তো মৃত কোন নগরীর পুরনো আকাশ–
গাঢ়তর দিপ্তী যেন নির্জনার হাতের এ সুঢোল দীর্ঘশ্বাস।

পারাপারে কামুক ঢেউ রতিবিদ্ধ আল্পনায় ছুঁয়ে থাকা নীল
সন্ধ্যার সোপান থেকে গড়িয়ে আসে সে মাতামুহুরির ঝিলমিল।
গভীর গর্জন আসে ; বিধ্বংসী হৃদয়ের অন্ধকার
থেকে ধরেছে বিলুপ্ত হাত– গুটানো হয়েছে পারাপার।

এখানে নির্জনা থাকে– নিস্তব্ধ বিষণ্নতা জুড়ে তার দেহ–
আগুনের নদী সে, ভাঙনের দ্রোহে হৃদয়ে মিশে থাকা কেহ।

রাঙা দ্বীপের দাঁতের ভাস্কর্য

দাঁতেল দুঃখগুলো আস্তানা গেঁড়েছে চোয়ালের
তেমাথার পূর্বপাশের বাড়িটার আস্তিনে
ওখানে জখমের পিনপিনে স্রাব ;
উদ্বোলিত দ্বিধার কোন্দল–
অজস্র বানরের উৎপাতে যেন ভেঙে দেয়
আত্মবিশ্বাসের প্রগাঢ় বেষ্টনী ;
অচ্ছুৎ হয়ে বাড়ি ফেরা বোবা কান্না কোলে করে পার করে
মহা পরাজয়ের এক নিরুত্তর বিরহকাল
মেনিমুখো দ্ব্যর্থতা মরামুখো দ্বৈততা–
যায়েদার বিষে নিহত ইমাম হাসানের সেই দ্বিধাগ্রস্ত নীল চোখের মত
আমার মনও অনর্গল চমকে শুধায়–
এই বিষাদিত নীলের অপার চক্রবাল শেষে
রাঙাদ্বীপের যে দাঁতের ভাস্কর্য —
আসলেই কি ছিল সেখানে কোন হৃদয়ের শত্রুঘাঁটি?

বলেছিলাম

বলেছিলাম
স্মৃতি তোমার দীর্ঘশ্বাসে
দুঃখ আসে–
পল্লবিনী দু-কূল জুড়ে ছড়ায় বিষণ্নতা।
জনবিরল অমলতাসে
ডাকবাক্সো কাঁপছে শোকে
জোড়া ভ্রুকে
কাহারবা যে ভুলে সে তো ভাবছে নিজের কথা।
বলেছিলাম
মন্দাকিনী সন্ধ্যা থেকে নিবিড় চন্দ্রালোকে
একটুখানি রাত্রি রেখো–একটুখানি ভ্রান্তি এঁকো
একটু দেখো কুঁচকে ভ্রুকে
তমসারই ত্রয়ী পিদিম–তুমুল নির্মমতা —

দুঃখে ভেজা আমার অমলতাসে
আগুন আসে… আগুন আসে
যে উল্লাসে পুড়ে দোহার অমাবস্যালোক–
অধীত চোখ সুখের শ্বাসে
উড়ায় যথার্থতা।
বলেছিলাম
আঘাত শেষে ক্লান্তি আসে
তারার পাশে রেখো আমায়–আমার পোড়া বুক;
যে কারো হোক, বেনামী শোক–
বেওয়ারিশে
মুক্তি দিও চৈত্রমাসে
চৈতি অসুখ বৈশাখীকে না দেয় যেন ব্যথা।
বলেছিলাম
স্মৃতি তোমার দীর্ঘশ্বাসে
দুঃখ আসে–
পল্লবিনী দু-কূল জুড়ে ছড়ায় বিষণ্নতা।

মূল সূত্র: showkatbd Somikkhon — মূল পোস্ট দেখুন