রক্তে ভেজা নিথর রাত

রক্তে ভেজা নিথর রাত – অবিনাশ চন্দ্র মণ্ডলের একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক, নির্মম এবং একই সাথে ক্ষোভ প্রকাশকারী প্রতিবাদী রচনা। কবিতার মূল সুর আবর্তিত হয়েছে দেশে একটি অন্ধকার রাতে ঘটে যাওয়া চার-চারটি তাজা প্রাণ – গণপতি, একটি নিষ্পাপ শিশু প্রিয়ম এবং মা-মেয়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে। সময়ের তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার ষড়যন্ত্রকে খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছেন কবি।
রক্তে ভেজা নিথর রাত
আঁধার রাতে নামল ছায়া, নিরবতা সুনসান,
এক নিমিষে শেষ হয়ে যায় চারটি তাজা প্রাণ!
গণপতির রক্তে সেথা ভাসল মেঝের বুক,
এক লহমায় মিলিয়ে গেল হাসিমাখা ঐ মুখ।
ছোট্ট শিশু প্রিয়ম কাঁদে, কানের কাছে সুর,
মা-মেয়েও শেষ হয়ে যায়, আর্তনাদ দূর।
কেমন করে কাটল রাত এমন নির্মম?
গল্প সাজায় পুলিশ এসে, সত্য নাকি ভ্রম?
নেশার ঘোরে রক্তপাত? মিথ্যা সাজানো?
কার ইশারায় আসল খুনি যাচ্ছে বাঁচানো?
সাপের মতন বিচার খেলা, প্রশ্ন মনে জাগে,
আসল পাপী মুক্ত ঘোরে অন্ধ অনুরাগে।
আর্তনাদে আকাশ কাঁদে, বাতাস ভারী হয়,
এই সমাজে বিচার কি আর সত্য সঠিক রয়?
২৪/০৮/২০২৬#
কবিতাটি শুধুই কোন শোকগাথা নয়। এটি বিচারহীনতার সংস্কৃতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সত্য ধামাচাপা দেওয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার এক জোরালো প্রশ্ন।